× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামের কল-কারখানার যত ক্ষতি

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৩ ০০:৪১ এএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো গত তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্য অনুাযায়ী, সিরামিকস ছাড়া চট্টগ্রামে নিবন্ধনকৃত কারখানা আছে ৪ হাজার ৯৪৯টি। এর মধ্যে ১ হাজার ২৪ পোশাক কারখানা, বাকি তিন হাজার ৯২৫টি নন আরএমজি কারখানা। এর মধ্যে ছোট বড় মিলিয়ে চট্টগ্রামে ইস্পাত কারখানা রয়েছে ২৯টি। অন্যদিকে সিমেন্ট কারখানা আছে ৮টি। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ইস্পাত, সিমেন্ট আর পোশাক কারখানাগুলোই সবচেয়ে বেশি লোকসানে পড়তে যাচ্ছে। শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ দিতে আরও দুয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড (কেজিডিসিএল)।

কারখানা মালিকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে গত তিন দিন ধরেই কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কিছু কারখানায় উৎপাদন একেবারে বন্ধ রয়েছে। পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকলেও গ্যাসের অভাবে আয়রন সেকশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

জিপিএইচ ইস্পাত গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমাস শিমুল বলেন, ‘১২ মে রাত ৮টা থেকে কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস আমরা এখনও আমাদের চাহিদা অনুযায়ী পাচ্ছি না। কেজিডিসিএল বলেছে, স্বাভাবিক হতে আরও দুয়েকদিন সময় লাগবে। গ্যাসের পাশাপাশি আমাদের কারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছু জানায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কারখানা চালু করতে পারবো না।

বিএসআরএম গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেন গুপ্ত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রড তৈরির কাঁচামাল বিলেট উৎপাদনের জন্য আমাদের চারটি প্ল্যান্ট আছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে চারটি প্ল্যান্টই গত তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফার্নেস অয়েল দিয়ে দুটি রি-রোলিং মিল আমরা কোনো মতে চালু রেখেছি। বিদ্যুত ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে হবে।’

২ থেকে আড়াই হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ইস্পাত কারখানা বন্ধ রাখলে দিনে কমপক্ষে ১ থেকে দেড় কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয় বলে জানিয়েছেন কারখানা মালিকরা। সেই হিসেবে ৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিএসআরএমের দুটি কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। একইভাবে তিন হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার জিপিএইচ ইস্পাত কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে দেড় কোটি ক্ষতি হচ্ছে। অনুরূপভাবে কেএসআরএম, একেএস স্টিল, গোল্ডেন ইস্পাতসহ অন্য কারখানাগুলোও একই ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে।

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ১২০০ এর বেশি শিল্প গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে বিএসআরএম, জিপিএইচ ইস্পাতসহ বড় বড় কারখানা আছে ১৫ থেকে ২০টি। এর বাইরে সিইউএফএল, কাফকো, ডিএপি সার কারখানা ও রাউজান ও শিকলবাহায় দুটি করে চারটি পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে। সরকারি এই সাতটি প্রতিষ্ঠানসহ সবগুলো শিল্প কারখানা ও আবাসিক গ্রাহকের গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরকারি সাতটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেসরকারি শিল্প কারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীতে স্থাপন করা দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই গ্রাহকদের এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে পাইপ লাইন বিচ্ছিন্ন করায় গ্যাস সরবরাহের এই সংকট তৈরি হয়। দুটি টার্মিনালের মধ্যে সোমবার সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি লিমিটেডের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। অন্য টার্মিনালটি চালু হতে আরও দুয়েকদিন সময় লাগবে। এর আগে শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে না বলে জানিয়েছে কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ইস্পাত কারখানাগুলোর মতো সিমেন্ট ও পোশাক কারখানাগুলোও গ্যাস সংকটে ভুগছে। গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা ক্ষতি গুণছেন এসব শিল্প কারখানা মালিকরা। 

পোশাক কারখানা মালিকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদিত পোশাকগুলো আয়রন করা যাচ্ছে না। যে কারণে সময় মতো বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার করা পোশাক বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেডের সিইও মো. আমিরুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবেই। উৎপাদন বন্ধ থাকলে লোকসান হবে। আমরা এখনও গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি না। একটি বিপর্যয় হলে যা হয়, আমরা সেটি মেনে নিচ্ছি।’

বিজিএমইএ সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে গত তিন দিন ধরে পোশাক কারখানাগুলো ফিনিশিং সেকশনটা (আয়রন সেকশন) বন্ধ রয়েছে। এতে ফিনিশিং সেকশনে পোশাকের লট দিন দিন বাড়তেছে। আগামীকালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের একটি সংকট তৈরি হবে। পরে এটি পুষে নেওয়া অনেক কষ্ট সাধ্য হবে। প্রাকৃতিক দুযোর্গের কারণে বিলম্ব হবে, সেটি আমরা ক্রেতাদের জানিয়েছি। শিপিং লাইনও জানে, কারণ জাহাজগুলোকে জেটি থেকে বর্হিনোঙরে পাঠানো হয়েছে। এভাবে আরও দুই তিন দিন চললে যারা স্থানীয় ফেব্রিক্স ব্যবহার করেন, তাদের কারখানাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ গ্যাসের কারণে ডায়িং সেকশন এখন বন্ধ রয়েছে।’

গ্যাস সরবরাহ কখন স্বাভাবিক হবে জানতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে একাধিকবার কল করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

পরে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (বিপনন বিভাগ) প্রকৌশলী আমিনুর রহমানকে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা