রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৩ ০০:৩১ এএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৩ ১৩:১৫ পিএম
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। প্রবা ফটো
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন জানিয়েছেন, আর্থিকভাবে ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ছিল রাসিক। আগের মেয়র রাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দিতে পারতেন না। বেতন-ভাতার দাবিতে তারা আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই জায়গা থেকে রাসিক এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শতাধিক কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি রাসিকের ফান্ডে এখন উদ্বৃত্ত অর্থ জমা রয়েছে। পরিচ্ছন্ন রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়নচিত্র এখন অন্য সবার কাছে দৃষ্টান্ত।
সোমবার (১৫ মে) দুপুরে রাসিকের ছয়টি বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় রাসিকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রাজশাহীর উন্নয়নে আবারও মেয়রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তারা জানান, রাসিকের ইতিহাসে নির্বাচনের আগে কোনো মেয়র এভাবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেননি।
সভায় লিটন বলেন, ১৮ মে আমি পদত্যাগপত্র জমা দেব। ২১ মে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেব। ২১ জুন জয়ী হয়ে আসতে পারলে আগামী পাঁচটি বছর হবে শুধুই কর্মসংস্থানের
তিনি আরও বলেন, ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত চরম দুরবস্থার মধ্যে ছিল রাসিক। এ সময় রাসিকের ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৭ কোটি টাকা। আগের মেয়র (মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পর্যন্ত দিতে পারছিলেন না। ২০১৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে চরম সংকটময় অবস্থায় আমি রাসিসের দায়িত্বভার গ্রহণ করি। তবে গত পাঁচ বছরে রাসিক আর্থিক সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ঋণের ৭০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। বাকি ঋণগুলোও পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন রাসিকের ফান্ডে জমা আছে ৪০ কোটি টাকা।
রাজশাহীর উন্নয়নে এখনও অনেক কাজ বাকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নে ৩ হাজার কোট টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। আগমীতে নির্বাচিত হলে বর্তমান ৯৭ বর্গকিলোমিটারের রাসিকের আয়তন বাড়িয়ে ৩৭০ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করা হবে। ওইসব এলাকার উন্নয়নে আরও ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। প্রয়োজন পড়বে আরও বেশি জনবলের।
নাগরিক সেবা নিশ্চিতে রাসিকের জনবলের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, রাসিকের স্থায়ী জনবল ৯০৬ থাকলেও আমি পেয়েছিলাম মাত্র ৩০৫ জন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিয়েছি। অস্থায়ী জনবলদের পর্যায়ক্রমে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিমালা হয়েছে। রাসিকের আয়তন বৃদ্ধি পেলে বর্তমান জনবলের আরও তিন গুণ বেশি জনবলের প্রয়োজন হবে।
সভায় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরিফ উদ্দিন, প্রধান প্রকৌশলী নূর ইসলাম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ, বাজেট কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন উপস্থিত ছিলেন।