নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ১২:৫৫ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৩ ১৩:০৩ পিএম
নৌযান চলাচল শুরুর পর হাতিয়ায় যেতে টিকিটি কাটছেন লোকজন। প্রবা ফটো
ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে ৬০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (১৫ মে) সকাল থেকে সারা দেশ থেকে দ্বীপটির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার বিকাল থেকে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম, হাতিয়া-ভোলা স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়।
ঘূর্ণিঝড় 'মোখা' প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় শুক্রবার বিকাল থেকে হাতিয়ার সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। ৬০ ঘণ্টা পর সকাল থেকে দুই পাড়ে আটকে থাকা মানুষজন তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছার সুযোগ পায়।
চেয়ারম্যান ঘাটের মো. ইমতিয়াজ নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘বাড়িতে যোগাযোগ বন্ধ। নদী শান্ত থাকলে ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে কোনো নৌযান ছিল না। বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘূর্ণিঝড়ে আটকা পড়েছি। নৌ যোগাযোগ চালু হওয়ায় আমরা খুশী।’
আমেনা বেগম নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘আমি অসুস্থ ছিলাম তাই মাইজদী এসেছি ডাক্তার দেখাতে। নিজের বাড়িতে যেতে পারছি তাই ভালো লাগছে। ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডব থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’
চেয়ারম্যান ঘাটে টিকেট বিক্রির দায়িত্বে থাকা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘দুই দিন শত শত মানুষ কষ্ট করেছেন। তারা অনেকেই ঘাটে রাত কাটিয়েছেন। তাই প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার পর নৌ যোগাযোগ চালু করা হয়।’
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়সার খসরু বলেন, সকাল থেকে নৌ যোগাযোগ চালু হয়েছে। ঘাট থেকে জাহাজ ঢাকা-চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। মূলত মানুষের জানমাল রক্ষায় হাতিয়ার সাথে সারা দেশের সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ছিল।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে কোনো অসুবিধা হয়নি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ছিল। এখন আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় নৌ-চলাচল শুরু হয়েছে।’