চণ্ডীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ১০:৩২ এএম
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চণ্ডীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষেই পিয়নের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কয়েক ছাত্রী। পিয়ন হুমায়ুন কবীরের এমন কাজের প্রতিকার চেয়ে প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরে হুমায়ুন কবীর শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পঞ্চম ও চতুর্থ শ্রেণির কয়েক ছাত্রীর শরীরে হাত দেওয়াসহ নানাভাবে যৌন নিপীড়ন করেন। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে একাধিক অভিভাবক জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। একপর্যায়ে অভিভাবকরা তাদের কন্যাশিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী একাধিক ছাত্রী বলে, হুমায়ুন কবীর শিক্ষক না হয়েও শেণিকক্ষে গিয়ে ছাত্রীদের শরীরে হাত দেন। মারধরের ভয় দেখিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের না জানাতে বলেন।
এক অভিভাবক বলেন, পিয়ন হুমায়ুনের কর্মকাণ্ডে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। তার স্ত্রী বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানালেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় উল্টো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে পরিবার শঙ্কার মধ্যে থাকে। শুধু তাই নয়, স্কুলসংলগ্ন বাড়ির খামারে গরু-ছাগল ও মুরগির খামারে শিক্ষার্থীদের কাজ করান প্রধান শিক্ষক। এ বিষয়ে তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আরেক অভিভাবক বলেন, অনেক মেয়ে লজ্জায় বলতে পারে না। তার মেয়ে স্কুলে যেতে না চাইলে বিষয়টি প্রকাশ হয়। এভাবে একে একে একাধিক অভিভাবক মুখ খুলতে শুরু করেছেন। ঘটনা শোনার পর তার মেয়েসহ ৪-৫ জন ছাত্রী ৭-৮ দিন ধরে স্কুলে যাচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে পিয়ন হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অতীতেও নানাভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে আগেও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে গরু-ছাগলের খামারের কাজে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও নাহিদা আক্তার তানিয়া জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুজন কান্তি শর্মা বলেন, ঘটনা তদন্তে সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী ছাত্রী, তাদের অভিভাবক ও অভিযুক্ত পিয়নের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খোঁজ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।