× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাবাকে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক

শহিদুল ইসলাম রাজী

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৩ ০০:২৭ এএম

আপডেট : ১৫ মে ২০২৩ ১১:২৩ এএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

গরু অসুস্থ বলে বাবাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন দুই ছেলে। এরপর লাশ মহাসড়কে ফেলে হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলে এলাকায় প্রচার করেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি তাদের। হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর জানা গেল, জমি অধিগ্রহণের ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতে প্রথম সংসারের দুই ছেলে ও তাদের মা পরিকল্পনা করে গোবিন্দগঞ্জের চায়ের দোকানদার আজিজার রহমানকে হত্যা করেন।

২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি রাতে বগুড়া-গাইবান্ধা মহাসড়ক থেকে আজিজার রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ। লাশটি গোবিন্দগঞ্জ বকচর এলাকার আশামণি হোটেলের সামনের মহাসড়কে পড়ে ছিল। ঘটনার পরমুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আজিজার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তবে তার শরীরের জখমের চিহ্ন দেখে অনেকেই সন্দেহ করেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে দুই দিন পর ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি আজিজার রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী মেনেকা বেগম গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাইবান্ধা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। তারা তদন্ত শেষে চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তাতে উঠে আসে সড়ক দুর্ঘটনা-নাটকের কাহিনী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবদুস সবুর বলেন, অভিযোগপত্রে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন আজিজারের প্রথম স্ত্রী সোহাগী বেগম, মেজো ছেলে সোহান মৃধা ও ছোট ছেলে ফারুক মৃধা। ফারুক মৃধা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনজন ঘটনার পর গ্রেপ্তার হলেও ফারুক ও তার মা সোহাগী বেগম জামিনে বের হয়েছেন। তবে কারাগারে রয়েছেন সোহান মৃধা।

পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র থেকে জানা গেছে, নিহত আজিজারের প্রথম সংসারে তিন ছেলে, এক মেয়ে। ২০০৮ সালে মেনেকা বেগমকে বিয়ে করে তার সঙ্গেই গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার পাশে তিনি নতুন বাড়ি করে থাকতেন। এ সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। বকচরের পুরান বাড়িতে থাকতেন প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানরা।

২০২১ সালে আজিজারের ১৫ শতক জমি ঢাকা-রংপুর চার লেন সড়কের জন্য অধিগ্রহণ করে সরকার। এতে ২৫ লাখ টাকা পান তিনি। টাকা সব সন্তানের মধ্যে সমান ভাগ করার ঘোষণা দেন তিনি। তবে প্রথম স্ত্রী সোহাগী বেগম ও তার ছেলেরা পুরো টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে আজিজার রহমান ও মেনেকা বেগমের সঙ্গে প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানদের একাধিকবার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার সময় আজিজার দ্বিতীয় স্ত্রীর পক্ষ নিতেন।

অভিযোগপত্রে আবদুস সবুর উল্লেখ করেন, আজিজার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার সন্তানদের বেশি অগ্রাধিকার দিতেন। জমি অধিগ্রহণের টাকা সমান ভাগ করে দেওয়ার কথা বলায় প্রথম স্ত্রী ও তার ছেলেরা হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী সোহাগী বেগমের পরামর্শে তার মেজো ছেলে সোহান মৃধা ও ছোট ছেলে ফারুক মৃধা গরু অসুস্থ বলে গত বছরের ১১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোনে তাদের বাড়িতে যেতে বলেন। আজিজার তার চায়ের দোকান বন্ধ করে দ্রুত প্রথম সংসারের সন্তানদের ডাকে চলে যান। পুরান বাড়িতে যাওয়ার পরপরই বাবাকে পেছন থেকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন সোহান। একাধিক আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আজিজার রহমান। রাত ১১টার দিকে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন দুই সন্তান ও তাদের মা। মরদেহ গুম করতে ছোট ছেলে ফারুক বাবার লাশ কাঁধে নিয়ে বাড়ির পেছন দিয়ে বের হন। এ সময় সোহানও তার সঙ্গে ছিলেন। তারা রাতের অন্ধকারে বাবার মরদেহ নিয়ে বগুড়া-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের পাশের একটি আখক্ষেতে বসে থাকেন। এ সময় মরদেহ থেকে মাটিতে রক্ত যাতে না পড়ে সেজন্য ক্ষতস্থান ভালো করে কাপড় দিয়ে মুছতে থাকেন। মহাসড়কটি ফাঁকা হলে, তারা বাবার মরদেহ সড়কের ওপর রেখে দ্রুত চলে যান। যাতে স্থানীয়রা মনে করেন তাদের বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী মো. আলম রক্তাক্ত আজিজার রহমানকে আশামণি হোটেলের সামনে বগুড়া-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি দ্রুত তার দ্বিতীয় স্ত্রী মেনেকা বেগমকে খবর দেন। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ছেলে সোহান তার রক্তমাখা টি-শার্ট গোয়ালঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন, লোহার রড খাটের নিচে রেখে দেন; যা পরে পিবিআই উদ্ধার করে।

মামলার বাদী মেনেকা বেগম এখন তার বাবার বাড়ি থাকেন। আজিজার রহমানের মৃত্যুর পর তার চায়ের দোকানটি এক দিন রাতে পুড়িয়ে দেয় অজ্ঞাতরা। তাই ভয়ে তিনি বাবার বাড়িতে থাকেন। তিনি জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর ভয়ে বাবার বাড়িতে থাকেন। মামলার মীমাংসার জন্য মেনেকাকে তার শাশুড়ি ও দেবর চাপ দিচ্ছেন বলেও জানান। তিনি অভিযোগ করেন, হত্যার সঙ্গে আজিজারের প্রথম স্ত্রীর ভাইয়েরাও জড়িত ছিলেন। তবে তাদের অভিযোগপত্রে আসামি করেনি পুলিশ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা