পাবনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৩ ২০:১৩ পিএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৩ ২৩:৫৯ পিএম
তীব্র দাবদাহে পাবনার ঈশ্বরদীতে গাছেই ফেটে ও শুকিয়ে যাচ্ছে লিচু। প্রবা ফটো
তীব্র দাবদাহে পাবনার ঈশ্বরদীতে গাছেই ফেটে ও শুকিয়ে যাচ্ছে লিচু। সপ্তাহজুড়ে ঈশ্বরদীতে বয়ে যাচ্ছে গরম বাতাস ও প্রচণ্ড দাবদাহ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর এমন অবস্থায় চাষি ও ব্যাপারিরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
গত বুধবার (১০ মে) ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন মঙ্গলবার ৩৯ দশমিক ১ ডিগ্রি ও সোমবার ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রার এ অবস্থা চলছে গত দুই সপ্তাহ ধরে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এ বছর তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় রয়েছে শত শত লিচুর বাগান। ২০ মের পর থেকে পর্যায়ক্রমে সব জাতের লিচু বাজারে আসবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
লিচুচাষিরা জানান, এখানকার লিচুর কদর সারা দেশেই রয়েছে। লিচুর মৌসুম শুরুর আগেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাগানের লিচু কিনে নেন। এরপর থেকে লিচু তোলা ও বাজারজাত করার দায়িত্ব তারাই পালন করেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় অর্ধেক মুকুল এসেছে। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে গাছ থেকে লিচুর গুটি ঝরে পড়ে। এখন তীব্র দাবদাহে লিচু ফেটে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেক চাষি লিচু পেড়ে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন।
সাহাপুর এলাকার লিচুচাষি আমিরুল ইসলাম সরদার বলেন, এবার লিচুর মুকুল কম হয়েছে। প্রচণ্ড খরায় লিচুর গুটি ঝরে পড়ার পর শেষ মুহূর্তে দাবদাহে আর পানির অভাবে গাছেই লিচু ফেটে যাচ্ছে ও শুকিয়ে যাচ্ছে।
রূপপুরের লিচুচাষি জালাল উদ্দিন বলেন, আর কয়েকদিন পর লিচু পরিপক্ব হওয়ার কথা। তবে তীব্র দাবদাহে গাছেই ফেটে ও শুকিয়ে যাচ্ছে লিচু।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, উপজেলায় এবার তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। তবে এবার বৈরী আবহাওয়ায় গুটি ঝরে পড়ায় ফলন কম হবে। প্রচণ্ড দাবদাহে লিচু ফেটে ও শুকিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চাষিদের করণীয় কী জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, লিচু ফেটে যাওয়া রোধে গাছে প্রচুর ঠান্ডা পানি দিতে হবে। এতে লিচু ফেটে যাওয়া রোধ হবে।