ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:০৩ পিএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:৫৩ পিএম
নেচে-গেয়ে উৎসব উদযাপন করছেন আদিবাসী তরুণীরা। ছবি : প্রবা
বন্যা-খরা থেকে বাঁচতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পাচপীরডাঙ্গা গ্রামের আদিবাসীরা নেচে-গেয়ে কারাম উৎসব উদযাপন করেছেন। শনিবার রাতে ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি উদযাপন করেন এই ওরাওঁ আদিবাসীরা। উৎসব দেখার জন্য শহরসহ বিভিন্ন এলাকার অন্য অনেক সম্প্রদায়ের মানুষও সমবেত হন।
উৎসবে যোগ দেওয়া আদিবাসী তরুণী মারথা লাখরা বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর এ উৎসব পালন করে থাকি। উৎসবে আমরা অনেক আনন্দ করি। নিজের বিপদ থেকে মুক্তির জন্য ও দেশের মানুষের মঙ্গল কামনায় আমরা এই কারাম পূজাটি করে থাকি। আমরা মনে করি, এ পূজার মাধ্যমে আমাদের সকল বিপদ-আপদ দূর হয়ে যাবে।’
বিপদ থেকে মুক্ত থাকতে এবং মঙ্গল কামনায় প্রতিবছর ভাদ্র মাসের একাদশীতে এই উৎসব হয়। সন্ধ্যার পর গান-বাজনার মাধ্যমে একটি কারাম বৃক্ষ পূজার স্থানে বসানো হয়। এই বৃক্ষ ঘিরে ঢাকের তালে নেচে-গেয়ে উৎসব জমিয়ে তোলেন সবাই।
আদিবাসী সুশীলা লাখরা বলেন, ‘এটি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। উৎসবে আমরা অনেক আনন্দ করে থাকি। আমাদের সকলের বাড়িতে মেহমান আসে। নেচে-গেয়ে কারাম পূজা উদযাপন করে আমরা বিপদ থেকে মুক্তি কামনা করি। এর মাধ্যমে আমাদের বিপদ-আপদ দূর হবে আর দেশের মানুষের মঙ্গল হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’
এই আদিবাসীরা কারাম গাছের ডালকে তাদের রক্ষাকবচ মনে করে বলে জানান জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, এই আদিবাসীরা মনে করেন গাছটি তাদের জীবন রক্ষা করে। সেজন্য প্রতিবছর তারা উৎসবটি পালন করেন।’
২০০৩ সালে কারাম উৎসব উদযাপন শুরু হয় বলে জানান কারাম পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা।
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি আয়োজনটি মানসম্মত করে করার জন্য। কারণ এটি আমাদের বড় একটি ধর্মীয় উৎসব। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা ভালোভাবে উৎসবটি করতে পারব।’
জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান কারাম উৎসব আয়োজনে পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।