পুলিশচক্রের ব্যবসা
এস এম রানা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৩ ১২:১৮ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৩ ১২:১৯ পিএম
প্রতীকী ছবি
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এমএলএম ব্যবসায় জড়িয়ে কনস্টেবল মনতোষচন্দ্র দাশ অন্তত ৩০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে আশঙ্কা করছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা।
মনতোষকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর তদন্তে নেমে পুলিশ ১০ জন ডায়মন্ড গ্রাহককে প্রাথমিক তালিকায় রেখে তদন্ত করছে। ডায়মন্ড গ্রাহক হতে হলে কমপক্ষে আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। ডায়মন্ড হওয়া গ্রাহকদের মধ্যে কয়েকজনের নাম-পরিচয় ও ছবি পাওয়া গেছে। তাদের কথায় বিনিয়োগের সত্যতা মিলেছে।
ডায়মন্ড গ্রাহকদের একজন পিকে চৌধুরী রনি। তিনি পিএলসিইউএক্স ডটকমে এমএলএম ব্যবসার নতুন প্যাকেজের বিস্তারিত তথ্য লিখে গ্রাহকদের কাছে বিতরণ করেছেন। ডায়মন্ড গ্রাহক ডা. পিকে চৌধুরী রনির মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া দেননি।
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এ প্যাকেজ তালিকার তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের বিপরীতে বছরে ৫৯০ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে। অবশ্য এ হারে মুনাফার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি। হালনাগাদ মুনাফার হিসাব পাওয়া যায়নি।
এ তালিকার তথ্য অনুযায়ী, ন্যূনতম ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে মাসিক মুনাফা হয় ২১ হাজার। আর ৩০ লাখ ১৬ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে মাসিক লাভ ১০ লাখ ৫০ হাজার। এখানে ২ লাখ ৫৪ হাজার টাকার বেশি যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদের পিএলসি মাস্টারকার্ড ফ্রি দেওয়ার কথা বলা আছে। এ কার্ড দিয়ে দেড় শতাধিক দেশে টাকা লেনদেন করা যাবে বলে প্রচার করা হয়।
যেমনটি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে লেনদেন করা যায়। পিএলসি মাস্টারকার্ড দিয়ে বাংলাদেশে গ্রাহকেরা নিজদের টাকা পিএলসি কার্ড থেকে অন্য হিসাবে স্থানান্তর করতে পারবেন বলেও প্রচার করা হয়। একটি সেমিনারে কনস্টেবল মনতোষ, পিএলসি কার্ড দিয়ে টাকা ট্রান্সফার সম্ভব- এটা দেখিয়েছেন উপস্থিত গ্রাহকদের।
পিএলসিইউএক্স ডটকমে ঠিকানা হিসেবে জর্জিয়ার কুটাইসি শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এটা সঠিক কি না, এটা আদৌ কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান কি না, এর মালিক-পরিচালক কে বা কারা, কনস্টেবল মনতোষ এর সঙ্গে কীভাবে জড়িত, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু বলতে পারেনি।
ডা. নারায়ণ কুমার বৈদ্য নামে একজনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তিনি ৬১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে তথ্য রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে ডা. নারায়ণ কুমার বৈদ্য অনলাইনে এমএলএম ব্যবসায় বিনিয়োগের তথ্য অস্বীকার করেছেন।
মনতোষ কতজন গ্রাহকের কাছ থেকে কত টাকা বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছেন, সে তথ্য না পেলেও এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিপুল টাকা কোথায় আছে, সেই হদিস এখনও পাওয়া যায়নি।’
টাকা নেই মনতোষের ব্যাংক হিসাবে
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা গ্রহণের পর সেই টাকা কোথায় রেখেছেন, সেই বিষয়ে এখনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ যা বলছে
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘মনতোষ এখন সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছেন। কিছু বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে।’ মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রাহকদের কেউ যদি মামলা দেয়, তাহলে নেওয়া হবে। তখন বিশদ তদন্ত করা যাবে।’