ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৩ ১২:১১ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৩ ১২:১১ পিএম
বেগুনি আভা ছড়িয়ে গাছে গাছে দোল খাচ্ছে জারুল ফুল। ফটিকছড়ির গহিরা-হেঁয়াকো সড়কের রায়পুর এলাকায়। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির গহিরা-হেঁয়াকো আঞ্চলিক সড়ক, চাড়ালিয়াহাট-মাইজভান্ডার সড়ক, মাইজভান্ডার-কিপাইতনগর সড়ক, নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে এখন বেগুনি রঙের জারুল ফুল যেন উৎসবে মেতেছে। গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে এখন কৃষ্ণচূড়া, সোনালুসহ স্থানীয় জাতের অনেক ফুলই ফুটছে। এসবের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ছে জারুল।
রায়পুর এলাকার বাসিন্দা ও তরুণ লেখক এম. হোসাইন বলেন, জারুলগাছ আমাদের এলাকার পরিবেশ সুসজ্জিত করেছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দেখে যে কেউ বিমোহিত হবেন। মনোরম এই পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে অনেক পথিক কিছু সময়ের জন্য হলেও থামছেন, বিশ্রাম নিচ্ছেন।
উদ্ভিদ গবেষকদের সূত্রে জানা গেছে, জারুলের আদি নিবাস বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের জলাভূমি অঞ্চল। জলাভূমির আশপাশের জনপদেই এ গাছকে বেশি দেখা যায়। এটি একটি পানিপছন্দ প্রজাতি। গাছের উচ্চতা ১০ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। গ্রীষ্মের শুরুতে জারুলের ফুল ফুটতে থাকে। শরৎ পর্যন্ত ফুল ফুটতে দেখা যায়।
তবে এটি যেমন জলাভূমিতে বেড়ে ওঠে, তেমনি এ গাছ শুকনো এলাকায়ও নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। অনেক শহর ও পাহাড়ি এলাকায়ও জারুল দেখা যায়। গ্রীষ্মে কচিপাতাভরা গাছের ডালে ডালে থোকা থোকা বেগুনি রঙের নজরকাড়া ফুল ফোটে। ফল ডিম্বাকার ও শক্ত। জারুল ফুলের ইংরেজি নাম ‘প্রাইড অব ইন্ডিয়া’। জারুলের বৈজ্ঞানিক নাম ‘লাগেরস্ট্রোমা সেসিওসা’। জারুলের কাঠ লালচে রঙের এবং অত্যন্ত শক্ত ও মূল্যবান। জ্বর, কাশি ও অনিদ্রায় জারুলের ভেষজ গুণও আছে।
নানুপুর লায়লা-কবির কলেজের অধ্যাপক মো. আহসান আরিফ চৌধুরী বলেন, ‘বৈশাখ মাসে গ্রামগঞ্জসহ রাস্তার ধারে জারুলগাছ এখন বেগুনি রঙের ফুলে প্রকৃতিকে এক অপার সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলেছে। চমৎকার এই ফুল সবারই নজর কাড়ছে প্রতিনিয়ত। জারুল গাছের বেগুনি রঙের ফুলে মনোমুগ্ধকর এক আবেশ তৈরি হয়েছে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য দেখতে খুবই ভালো লাগে। যদিও বর্তমানে জারুলগাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে, তাই সড়কের দুই ধারসহ বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এই গাছটি বেশি করে রোপণ করা খুবই জরুরি।’
তরুণ আইনজীবী ও সংগঠক মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, জারুল একটি ঔষধি গাছ। এর যেমন সৌন্দর্য রয়েছে তেমনি ভেষজ গুণও রয়েছে। জারুল সুন্দর, বেগুনি রঙের ফুল। গ্রীষ্মের শুরুতে ফোটে শরৎকাল পর্যন্ত দেখা যায়। জারুল জ্বর, অনিদ্রা, কাশি, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে ব্যবহার করা হয়। অক্সিজেন তো সরবরাহ করেই, বহুগুণসমৃদ্ধ এ গাছ বেশি বেশি লাগানো উচিত।