ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৩ ১৬:১৪ পিএম
সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে অবরুদ্ধ পরিবারকে মুক্ত করছেন ইউএনও। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাচীর দিয়ে অবরুদ্ধ করা এক পরিবারকে মুক্ত করতে যাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজের উপর টেটা দিয়ে হামলার ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার (৮ মে) রাতে ভৈরব উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল হেলিম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় এই মামলা করেন। ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গাজিরটেক পশ্চিম পাড়া এলাকার সাজিদ মিয়া, আজিজ মিয়া, নাছির মিয়া, নাজমুল মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, ফরহাদ হোসেন সোহেল, আতাবুর মিয়া, জয়নাল আবেদীন, মিন্টু মিয়া, আব্দুর রব, রউফ মিয়া। এছাড়া মামলায় আরো ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ পশ্চিম পাড়া গাজীরটেক কবরস্থানে সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। এতে করে হুমায়ুন নামে এক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ, উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল হেলিম, ভৈরব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত, উপজেলা ভূমি অফিসের সর্ভেয়ার মো. আনোয়ার, আনসার সদস্য ইয়াসিন ইসলাম, মো. জামাল উদ্দিন ও মো. আশিকসহ দুই জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা হুমায়ুনের বাড়ির সামনে বাউন্ডারি তৈরি করা লোকজনকে ডেকে বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে কেউ সাড়া দেননি। এক পর্যায়ে ইউএনও পরিবারটিকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করতে ঘটনাস্থলে থাকা তিন জন রাজমিস্ত্রীকে বাড়ির গেট বরাবর বাউন্ডারির অংশটুকু ভাঙ্গার নির্দেশ দেন। শ্রমিকরা বাউন্ডারির অংশটুকু ভাঙ্গার সময় আসামিরা দা, লাঠি, টেটাসহ ঘটনাস্থলে এসে সরকারি কর্তব্য পালনে বাধা দেয়। এ সময় তারা আনসার সদস্য ইয়াসিন ইসলামকে জখম করে। আসামিরা উপস্থিত সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে থানায় সংবাদ দিলে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আসামিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৮ থেকে ১০ জনসহ একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।