মানিকগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৩ ১৩:৪৮ পিএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৩ ১৩:৪৯ পিএম
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার শিমুলিয়ায় মঙ্গল মাল্টিপারপাস অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা। প্রবা ফটো
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের চৌরাস্তার পাশে মানব মঙ্গল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের অফিসে তালা ঝুলছে। পাস বই ও টাকা জমা দেওয়ার কাগজপত্র নিয়ে ওই অফিসের সামনে ৫০ থেকে ৬০ জন নারী ও পুরুষ অপেক্ষা করছেন।
তাদের সঙ্গে কথা বলার পর কেউ জানান ২ লাখ, সাড়ে তিন লাখ, কেউ আবার ৭ লাখ টাকার বেশি জমা রেখেছেন। সব মিলে এই এনজিও প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে চলে গেছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও এর প্রতিকার চেয়েছেন।
ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার জানান, তিনি মাসে এক হাজার টাকা পাওয়ার শর্তে টাকা জমা রাখেন। কিন্তু টাকা রাখার পর কয়েক মাস এক হাজার করে টাকা দিলেও করোনার অজুহাতে দুই বছর যাবৎ কোনো টাকা দেয়নি। করোনার পরে পাওনা টাকা চাইলেও কর্তৃপক্ষ নানা তালবাহানা করে জানায় তাদের কাছে কোনো টাকা নেই।
শুধু ফাতেমা আক্তার নন আশপাশের প্রায় ৫০০ মানুষ এভাবে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। উপজেলার কালিকাবাড়ী গ্রামের ভুক্তভোগী মো. নবু বেপারি জানান, তিনি ১৪ লাখ টাকা রেখেছেন। প্রথমদিকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেয়। কয়েক মাস পর এনজিওর লাভ কমে যাওয়ায় এক হাজার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে কমতে কমতে ৮০০ টাকায় নামে তারা। আর করোনা থেকে টাকা দেওয়া একেবারে বন্ধ করে দেয়।
তিনি আরও জানান, আগে মাঝে মাঝে অফিস কিছুক্ষণের জন্য খুললেও গত শনিবার থেকে অফিসের সাইনবোর্ড খুলে তারা লাপাত্তা হয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সাটুরিয়া উপজেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের অক্টোবর মাসের ১১ তারিখ মানব মঙ্গল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড রেজিস্ট্রেশন পায়। ২০২১ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠান ওই ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে ৩ কোটি ৯৬ লাখ দুই হাজার ৬৪২ টাকা সংগ্রহ করে। এ ছাড়া ১০০ টাকা করে শেয়ার বিক্রি বাবদ দুই লাখ ৩৮ হাজার ৯৫০ টাকা ও সঞ্চয় বাবদ আরও ২১ লাখ ৮১ হাজার ৬৭২ টাকা সংগ্রহ করে।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের পর মঙ্গল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড চলতি বছরের অডিট প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তাদের কার্যক্রমের বিষয়টি অবগত হয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি যাতে ওই এনজিওর সঙ্গে জড়িত কেউ পালাতে না পারেন। এ ছাড়া আমার বিভাগীয় অফিসেও ব্যাপারটা অবগত করেছি। তার সঙ্গে এই ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত প্রতিবেদন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে চাওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।