শরীয়তপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৩ ১৫:২৬ পিএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৩ ১৬:১১ পিএম
মেঘনা নদী থেকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোহরা বেগম। প্রবা ফটো
লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে যাওয়ার ৯ ঘণ্টা পর ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার জোহরা বেগম মারা গেছেন। সোমবার (৮ মে) সকালে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
পঙ্গু হাসপাতালে জোহরার সঙ্গে থাকা তার মা নার্গিস বেগম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তার (জোহরার) মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি ফোনে বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি জোহরাকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু বাঁচাতে পারলাম না। ওর দুই ছেলে ও এক মেয়ে মা হারা হয়ে গেল। আমি ওদের কী বলে সান্ত্বনা দেব। সকালে ওষুধ খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পরেই মেয়েটা আমার মারা যায়।’
জোহরা বেগম শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের পশ্চিম বিষকাটালি গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের স্ত্রী। স্বামী–সন্তানের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন তিনি। ঈদে গ্রামে বেড়াতে যান। বুধবার রাতে ঈগল–৩ লঞ্চে গ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা মাইঝাড়া ঘাট থেকে লঞ্চে ওঠেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে লঞ্চটি ঠান্ডার বাজার এলাকায় পৌঁছালে অসাবধানতাবশত তিনি লঞ্চের দ্বিতীয় তলা থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে যান। সেখানে লঞ্চ থামিয়ে সার্চলাইট দিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। না পাওয়া গেলে তার স্বামী ও ছেলেকে একটি জেলে নৌকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ কল করে জোহরার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানানো হয়। পড়ে যাওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জেলেরা।
জোহরার স্বজনরা জানান, মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করার পর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। লঞ্চ থেকে পরে যাওয়ার সময় তার বাম পা ভেঙে যাওয়া। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে তার বাম পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। তাকে ওই হাসপাতালের পুরাতন ভবনের চার তলায় নারী রোগীদের জিএইচও ওয়ার্ডের ২৬ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
কুচাইপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘জোহরার আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলছি। তারা আমাকে মৃত্যুর খবর জানায়। জোহরা অসুস্থ হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়। সেখানেই চিকিৎসা অবস্থায় সে মারা যায়। তাকে দাফন করার জন্য গ্রামে আনা হবে। আমরা তার পরিবারের পাশে থাকব।’