কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা হত্যা
কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৩ ১৪:৫২ পিএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৩ ১৬:২০ পিএম
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুরে যুবলীগ নেতা জামাল হোসেনকে বোরকা পরে গুলি করা তিনজনকে শনাক্তের দাবি করেছে পুলিশ। তবে ‘তদন্তের স্বার্থে’ তাদের নাম-পরিচয় জানায়নি বাহিনীটি। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে জামাল হত্যায় ছয়জন গ্রেপ্তার হলেন।
সোমবার ( ৮ মে) কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান।
তিনি জানান, শুটারদের কেউ দেশে আছেন, কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, যুবলীগ নেতা হত্যায় সম্পৃক্ত কিন্তু এজাহারভুক্ত আসামি নন এমন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি হাইয়েস গাড়ি, একটি বোরকা ও ক্যানভাস সু।
গ্রেপ্তাররা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের মো. রবি, মো. শাহ পরান ও গাড়িচালক লালপুর গ্রামের মো. সুমন হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান।
তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার স্থান গৌরিপুর বাজার থেকে শুরু করে তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি পর্যন্ত সব স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বোরকা পরা অস্ত্রধারীরা যে গাড়িতে করে গৌরিপুরে আসেন এবং পালিয়ে যান, সে হাইয়েস গাড়ির চালক সুমনকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুমনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী তার চান্দিনার ভাড়া বাসার সামনে থেকে হাইয়েস গাড়িটি জব্দ করা হয়। এ সময় তার বাসা তল্লাশি করে দুই জোড়া ক্যানভাস সু ও ঘটনার সময় তার পরিহিত ট্রাউজার উদ্ধার করা হয়।’
অন্য দুই আসামি শাহ পরান ও রবিকে ঢাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘শাহ পরান ঘটনার আগে ও পরে ঢাকা থেকে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের আত্মগোপনে যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করেন।’
তিনি জানান, শাহ পরান মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক ৮ নম্বর আসামি অলি হাসানের ভায়রা। অন্য আসামি রবি ৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি কালা মনিরের ভাই। তিনি ঘটনাস্থলের আশপাশে থেকে আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী একটি বোরকা ও নেকাব উদ্ধার করা হয়। সুমন ছাড়া বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ ঘটনায় বহু আসামি সম্পৃক্ত রয়েছেন। তদন্তে অনেকের নাম বেরিয়ে আসছে। যে তিনজন শুটার, তাদের পরিচয় তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাচ্ছে না। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থা জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে। আমরা র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার তিনজন ও আমাদের হাতে গ্রেপ্তার তিনজনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করব।’
৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর বাজারে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেনকে বোরকা পরিহিত তিন ব্যক্তি গুলি করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিতাস উপজেলায় বাড়ি হলেও জামাল হোসেন ব্যবসা করতেন দাউদকান্দির গৌরিপুর বাজারে। বাজারের পাশে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
তাকে হত্যার ঘটনায় ২ মে রাতে দাউদকান্দি থানায় নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন স্ত্রী পপি আক্তার।
এ ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারা হলেন মামলার ৩ নম্বর আসামি ইসমাইল হোসেন, ৪ নম্বর আসামি সোহেল শিকদার ও ৭ নম্বর আসামি মো. শাহ আলম। যুবলীগ নেতা জামাল হত্যায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।