চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৩ ১৭:২২ পিএম
আপডেট : ০৭ মে ২০২৩ ১৮:০৫ পিএম
বিজিবির কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। প্রবা ফটো
জঙ্গিরা সুপথে ফিরে আসতে চাইলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রবিবার (৭ মে) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে পাহাড়ের সশস্ত্রগোষ্ঠী কেএনএফের বিষয়ে সরকারের এমন অবস্থানের কথা জানান তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে বিজিবির ৯৯তম রিক্রুট ব্যাচের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিরা কোন নামে আসছে, সেটা কোনো বিষয় না। জঙ্গি হোক আর যাই হোক, যে নামেই আসুক তারা অস্ত্রধারী। তাদেরকে আমরা প্রতিহতের চেষ্টা করছি।’
এর আগে সকালে বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডের কুচকাওয়াজে যোগদেন মন্ত্রী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নবীন সৈনিকদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বিজিবির দুই জন বীরশ্রেষ্ঠ, আট জন বীর উত্তম, ৩২ জন বীর বিক্রম এবং ৭৭ জন বীর প্রতীকসহ ৮১৭ জন অকুতোভয় বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তিনটি জেলা দুর্গম এলাকায় পড়ে। এই জেলাগুলোর বর্ডারও অনেকটাই দুর্গম এলাকায়। সে কারণে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা সব সময় প্রয়োজন হয়। বিজিবির ভিজিলেন্স টিম কাজ করছে এবং সক্ষমতা অর্জনের জন্য তাদেরকে হেলিকপ্টার দেওয়া হয়েছে। আমরা বর্ডার রোড তৈরি করতে যাচ্ছি। সেগুলো প্রস্তুত হয়ে গেলে জঙ্গিবাদের উত্থানের যে কথা বলা হচ্ছে সেটি আর থাকবে না। দুর্গম এলাকাগুলোতে আমরা নতুন নতুন বিওপি করার চেষ্টা করছি। এ ছাড়া বিজিবিতে লোকবল বাড়িয়ে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ওই জায়গাগুলোতে স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিজিবির যেসব ইকুইপমেন্ট (যন্ত্রপাতি) দরকার সেগুলো আমরা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এই বাহিনী তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় একটি সুসংগঠিত, চৌকস, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তারা এখন জল, স্থল ও আকাশপথে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সক্ষম। স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক সার্ভেইলেন্স ইকুইপমেন্ট স্থাপন, অত্যাধুনিক যুগোপযোগী ও কার্যকর অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন্স, এটিভি, এপিসি, রায়ট কন্ট্রোল ভেহিক্যাল এবং এয়ার বোটসহ দ্রুতগামী জলযান সংযোজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের কলেবর বাড়াতে সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গায় আরও একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্বলিত ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিকের মূল পরিচিতি। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনও পিছপা হয় না সে-ই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি। নবীন সৈনিকরা এসব গুণাবলির প্রতিফলন ঘটিয়ে বাহিনীর ঐতিহ্য সমুন্নত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান। বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।