শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৩ ১৮:০৪ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে ২৬০ ফুট গভীর নলকূপ থেকে বের হচ্ছে গরম পানি। প্রবা ফটো
নিরাপদ পানির আশায় ২৬০ ফুট গভীর নলকূপ বসিয়েছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী (গিলারচালা) এলাকার বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন। কিন্তু ওই নলকূপ থেকে বের হচ্ছে গরম পানি। শুরুর দিকে ঠান্ডা পানি বের হলেও গত তিন বছর যাবৎ পানি বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে। স্থানীয়রা এই গরম পানির কারণ জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দাবি জানান।
শনিবার (৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, গভীর এই নলকূপ থেকে গরম পানি বের হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে আশপাশের বাসিন্দারা এসে পানি নিজ হাতে ছুঁয়ে দেখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বুলবুল জানান, ২৬০ ফুট গভীর নলকূপ থেকে গরম পানি বের হচ্ছে। তবে কী কারণে নলকূপ থেকে গরম পানি বের হচ্ছে তা কেউ বলতে পারছে না।
একই এলাকার আরিফ হোসেন জানান, সাহাব উদ্দিনের নলকূপের পানি অনেকটা ফুটন্ত গরম পানির মতো। বাড়ির ভাড়াটিয়ারা পানি ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টা আগে পানি সংরক্ষণ করে পাত্রে রেখে দেয়। পরে পানি ঠান্ডা হলে তা ব্যবহার করে। তবে সাবানের পানির মতো এই পানি অনেকটা পিচ্ছিল। এর গন্ধও একটু অন্যরকম।
শাহাব উদ্দিনের ছেলে মো. কাউসার জানান, ১৫ বছর আগে বসত ঘরের সামনে তার বাবা একটি নলকূপ স্থাপন করেন। ওই নলকূপ থেকে নিয়মিত গরম পানি বের হতে থাকে। পরে সুপেয় ও নিরাপদ ঠান্ডা পানির আশায় বাড়ির পাশে এই নলকূপটি স্থাপন করা হয়। ৮ বছর আগে স্থাপন করা গভীর এই নলকূপ থেকে প্রথমে ঠান্ডা পানি বরে হলেও গত তিন বছর ধরে পানি গরম অনুভূত হচ্ছে। তাৎক্ষণিক এই নলকূপের পানি কোনো কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
সাহাব উদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া নাসিমা আক্তার মিমি জানান, তিনি পাঁচ বছর যাবৎ এই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। আগে পানি ভালো ছিল। গত তিন বছর ধরে গরম পানি বের হওয়ায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এই পানি দিয়ে গোসল করা যায় না। পানি ব্যবহার করলে শরীর চুলকায়, মাথার চুল পড়ে যায়। হাত-মুখ ধুয়ে স্বস্তি পাওয়া যায় না। ফ্রিজে পানি সংরক্ষণ করে ঠান্ডা হলে তারপর ব্যবহার করতে হয়।
এ ব্যাপারে সাহাব উদ্দিন বলেন, প্রথমে বসত ঘরের সামনে ২২০ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি ব্যবহার করছিল তার পরিবার। হঠাৎ নলকূপের পানির অস্বাভাবিক রং ধরা পড়ে এবং হালকা গরম পানি বের হতে থাকে। পরে এই নলকূপের ৫ হাত দূরত্বে ২৬০ ফুট গভীর আরেকটি নলকূপ স্থাপন করা হয়। নতুন নলকূপ থেকে প্রথমে ঠান্ডা পানি বের হয়েছিল। তবে তিন বছর আগে থেকে গরম পানি আসা শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ডাইং প্ল্যান্টের স্থাপন করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের বিষয়টি জানালে কারখানার প্রকৌশলী বিষয়টি দেখে সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্তু তিন বছর পার হলেও কোনো সামাধান দিচ্ছে না।’
স্থানীয় পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম বলেন, ‘গরম পানি বের হওয়ার খবরে আমি নিজ উদ্যোগে ওই নলকূপের পানি সংগ্রাহ করে বেসরকারি কয়েকটি দপ্তরে পাঠিয়েছি। কেন গরম পানি বরে হচ্ছে তা পরীক্ষা ছাড়া বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার অনুরোধ করেছি।’
শ্রীপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সহকারী প্রকৌশলী ফয়সাল খান জানান, গভীর নলকূপ থেকে গরম পানি বের হওয়ার বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছেন। রবিবার (৭ মে) অফিসে এসে তিনি বিষয়টি দেখবেন। তবে এখানে পরীক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা নেই।