গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৩ ১৬:৪০ পিএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৩ ১৯:০৩ পিএম
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী সেলিম আহম্মেদ ছোটন। ফাইল ফটো
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ইউএনও ফেরদৌস ওয়াহিদের চিঠি জালিয়াতি করে সড়কের গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে পত্র পাঠানোয় পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী সেলিম আহম্মেদ ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার ইউএনও ওই চিঠি দিলেও বৃহস্পতিবার (৪ মে) বিষয়টি প্রকাশিত হয়। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ওই চিঠিতে ইউএনও বলেছেন, কোটালীপাড়ার পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী সেলিম আহম্মেদ ইউএনওর চিঠি জালিয়াতি করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তিনি এ বিষয়ে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন।
জানা গেছে, রাজৈর-কোটালীপাড়া সড়কে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অধীন ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ১ হাজার ৩৪৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনে এর মধ্যে জীবিত ১ হাজার ২৪৫টি গাছ ২০১৭ সালে ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৬২৪ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে কাটার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। তবে তখন সেগুলো আর কাটা হয়নি। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কয়েক দফায় সড়কটির উন্নয়নকাজের জন্য তাগিদ দেয়। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ওই গাছগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয়ের বিষয়ে মতামতের জন্য ইউএনও ফেরদৌস ওয়াহিদের নামে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠান সেলিম আহম্মেদ ছোটন।
পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ওই ইউএনওকে জানানো হলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পরে। এরপরই ওই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠান ফেরদৌস ওয়াহিদ।
কোটালীপাড়ার ইউএনও ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ’গাছ কাটার বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি। পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সেলিম আহম্মেদ ছোটন একটি স্মারকপত্রের প্রাপক পরিবর্তন করে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় বরাবর দাখিল করেন। ওই ছাত্রলীগ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দায় স্বীকার করেন এবং লিখিত মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোটালীপাড়া পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সেলিম আহম্মেদ ছোটন কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি সংবাদটি না করার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন বলেন, ’কোনো সরকারি কর্মকর্তার চিঠি বা স্বাক্ষর জালিয়াতি করা বেআইনি। তবে এ ব্যাপারে আমি এখনও কিছু জানি না। যদি আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আসে, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকারের উপপরিচারক আজহারুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।