লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৩ ২৩:৩৫ পিএম
যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরে আলোচিত যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ও ছাত্রলীগ নেতা রাকিব ইমাম হত্যা মামলার আরেক আসামি আলমগীর ওরফে কদু আলমগীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (৩ মে) সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট চন্দ্রগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক আনোয়ারুল কবীর আলমগীরের জবানবন্দি নেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২ মে) রাতে মামলার ৩ নম্বর আসামি রামগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক দেওয়ান ফয়সাল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় আদালতে জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, আলমগীরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, অপহরণ এবং বিস্ফোরণ আইনে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা, নোয়াখালীর চাটখিল থানা এবং চট্রগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ১০টি মামলা রয়েছে।
আলমগীর একসময় সন্ত্রাসী লাদেন মাসুম বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। লাদেনের মৃত্যুর পর তিনি বাহিনী পরিবর্তন করেন। নোমান ও রাকিব হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত ১৮ নাম্বার আসামি আলমগীর। তিনি সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের উত্তর মাগুরী গ্রামের আবু কালামের ছেলে। তাকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে আলমগীর জানায়, ২৫ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে দুজন লোক তার বাড়িতে যায়। তখন তাকে জানানো হয় নোমানকে শায়েস্তা করতে হবে। তাদের সঙ্গেই মোটরসাইকেলযোগে তিনি নাগেরহাট আসেন। সেখান থেকে তারা বশিকপুরের একটি বড় মাঠে যান। সেখানে আরও ৩০-৪০ জন লোক ছিলেন। তখন একজন লোক তাদেরকে শর্টগান, রিভলবার ও পিস্তলসহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র দেয়। পরে ৭-৮ জন করে ৫-৬ টি দলে তাদের ভাগ করে দেওয়া হয়। তার দলে ৮ জন ছিলেন। এ সময় জৈনক ব্যক্তি সবাইকে কার্যক্রম বুঝিয়ে দেন। তবে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নোমানকে হত্যা করা। এর জন্য টিমগুলো ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করবে।
জবানবন্দিতে আলমগীর আরও জানায়, ঘটনার আগে তার দলটি ঘটনাস্থলের অদূরে করাত কলের পাশে প্রায় ৪৫ মিনিট ওঁৎ পেতে থাকে। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে গুলির শব্দ শোনে। এ দলটি দৌঁড়ে এসে দেখে রাকিব ইমাম পড়ে আছে এবং নোমান পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তিনজন মিলে নোমানকে গুলি করে হত্যা করে। নোমান মারা গেলে তাদের দলটি নাগেরহাট মাদরাসার সামনে যায়। সেখানে সিএনজি অটোরিকশা ছিল। ৫ জন সিএনজিতে করে চলে যায়। বাকি তিনজন মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হত্যাকাণ্ডে সে নিজেও পিস্তল ব্যবহার করেছে। ঘটনা শেষে অস্ত্রগুলো ওই ব্যক্তির কাছে জমা দিয়ে দেয়।
পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজে আলমগীরসহ যে ৮ জনকে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় সে পুলিশকে জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ বি ছিদ্দিক, মংনেথোয়াই মারমা, সোহেল রানা, ডিআইওয়ান আজিজুর রহমান মিয়া ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন।
২৫ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের পোদ্দারবাজার এলাকায় জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নোমান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল নিয়ে যায়। পরদিন রাতে নিহত নোমানের বড় ভাই ও বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এতে চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম জিহাদীকে প্রধান করে ১৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত র্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।