সিলেট সিটি নির্বাচন
সিলেট অফিস
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৩ ২২:৪৫ পিএম
আপডেট : ০৪ মে ২০২৩ ১৮:১৯ পিএম
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে স্থানীয় কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের যে নেতারা দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন তারাও মনোক্ষুণ্ণ। মনোনয়ন ঘোষণার আগেই তারা আনোয়ারুজ্জামানের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যাক্ত করেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সিলেট সিটির বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী ফের প্রার্থী হলে নৌকার প্রার্থীকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ-অসন্তোষ নিরসনে সিলেটে আসছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ‘নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে’ করণীয় নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর আরামবাগ এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে যৌথ কর্মীসভা ডেকেছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। বিশেষ অতিথি সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য সিলেটের প্রভাবশালী নেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেছা হক। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।
এ সভায় নগরীর ২৭ ওয়ার্ডের পাশাপাশি বর্ধিত এলাকার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দুলাল ও মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল। গতকাল মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক খন্দকার মহসিন কামরানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এ সভা প্রসঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সিলেট আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভা করেছে। যৌথ সভায় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
সাবেক যুবলীগ নেতাসহ মেয়র পদে মনোনয়নপত্র নিলেন দুজন
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দুজন। তারা হলেন জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল হানিফ কুটু ও আব্দুল মান্নান খান। তারা দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
এর মধ্যে কুটু আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তালিকাতেও ছিলেন না। হুট করে মেয়র পদে তার মনোনয়ন সংগ্রহের ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। কুটুর স্ত্রী নাজনীন আকতার সিলেট সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর কুটু জানান, তার সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহ চাইলে তিনি নির্বাচন করবেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তালিকায় ছিলো না কুটুর নাম।
সিলেট সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের মিডিয়ার কর্মকর্তা সৈয়দ কামাল হোসেন জানান, গতকাল পর্যন্ত মেয়র পদে দু’জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন কিনেছেন। সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১২৯ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৪০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
আরিফ-আনোয়ার বাহাস চলছে এখনও
আরিফুল হক চৌধুরীর সামনে টানা তৃতীয়বার মেয়র পদে বিজয়ী হওয়ার সুযোগ। কিন্তু তিনি প্রার্থী হবেন কিনা সে বিষয়ে এখনো খোলাসা করেননি। তবে তার বিভিন্ন বক্তব্যের সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হবেন। প্রার্থীতার বিষয়টি স্পষ্ট না করলেও কৌশলে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। সেই প্রচারের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নিয়ে নানা মন্তব্যও করছেন। গত ১ মে নগরীতে শোডাউন দেওয়ার সময় নৌকার প্রার্থী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আনোয়ারকে ‘বহিরাগত’ বলে অভিহিত করে আরিফ বলেন, ‘বাইরে (যুক্তরাজ্য) থেকে কেউ এসে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের দাস বানাতে পারবে না। আমরা কারও দাস বনতে (হতে) চাই না। আমাদের রক্তচক্ষুর ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।’ স্থানীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বাদ দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা এই সিলেটের মাটিতে নেতৃত্ব¡ দিচ্ছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত, তাদের বাদ দিয়ে হায়ার (ভাড়া) করে কাউকে এনে বিভিন্ন এলাকার মানুষদের দিয়ে আমাদের নেতৃত্ব দেবেন, আমরা কি সবাই দাসখতে দস্তখত (দাসত্বের অঙ্গীকার) দিয়েছি?’
এর জবাবে ওই রাতেই গতকাল নগরীর মজুমদারি এলাকায় গণসংযোগকালে আনোয়ার বলেন, ‘বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নাকি বলেন, আমি বাইরে থেকে এসেছি। আমার বাড়ি তো (নগরী থেকে) ১৭ কিলোমিটার দূরে (বালাগঞ্জে)। আমার জন্ম হয়েছে এই সিলেটেই। ওনার বাড়ি তো (মৌলভীবাজার জেলার) কমলগঞ্জ। তাহলে কে বহিরাগত? কমলগঞ্জ থেকে যদি তিনি (আরিফ) সিলেটের মেয়র হতে পারেন, তাহলে আমি সিলেটে থেকে কেন সিলেটের মেয়র হতে পারব না?’