বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৩ ১৮:০১ পিএম
আপডেট : ০৩ মে ২০২৩ ১৯:২৮ পিএম
সানজিদা ইসলাম রিয়া। প্রবা ফটো
রাতে চোখের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। সেই শোকে মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তবে সকালে বাবার মরদেহ মর্গে রেখে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় বসলেন এক পরীক্ষার্থী।
ঘটনাটি বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের। ওই পরীক্ষার্থীর নাম সানজিদা ইসলাম রিয়া। তিনি পাকুরগাছিয়া এলাকার নিহত শফিকুল ইসলাম পনুর মেয়ে। সানজিদা একই ইউনিয়নের জর্জিয়া কিন্ডারগার্টেন থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
সানজিদার পরীক্ষাকেন্দ্র সদরের কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘সানজিদা কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জর্জিয়া কিন্ডারগার্টেন থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে সে দুটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ওর বাবা দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হয়। কিন্ত মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বুধবার (৩ মে) বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে বাবার মরদেহ দেখে এরপর পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে মেয়ে সানজিদা। আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছি।’
পরীক্ষা শেষে সানজিদা বলেন, ‘বাবার মরদেহ মর্গে দেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার চেয়ে কষ্টের আর কিছুই নেই। বাবার স্বপ্ন ছিল আমি লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হব। বাবাকে তো আর ফিরে পাব না, পরীক্ষাটা না দিলে বাবার স্বপ্ন ভেঙে যেত। তাই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। আমার বাবাকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নিহত সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম পনুর স্ত্রী ছবি আক্তার বলেন, ’মঙ্গলবার রাতে ঠান্ডা বাহিনীর ২০-২৫ জন লোক রামদা ও টেঁটা দিয়ে আমাদের সামনেই আমার স্বামীকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার স্বামীকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও ওরা মারধর করে। আমার মেয়ে সানজিদাকে তার বাবার লাশ মর্গে রেখে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এর চেয়ে আর দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি কী থাকতে পারে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল হালিম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের ৭-৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আর ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় আছে এমন কোনো অভিযোগ আমরা এখনও পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরগুনা সদরের আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য মোতাহার মৃধার সমর্থক ঠান্ডা গ্রুপ ও ওই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম পনু গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে নির্বাচনের দেড় বছর পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে পনুকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। এর আগেও বেশ কয়েকবার পনুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ রয়েছে ঠান্ডা বাহিনীর বিরুদ্ধে।