× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পাহাড়ে নিরাপদ পানির আধার পাড়াবন

বান্দরবান প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৩ ১২:০১ পিএম

আপডেট : ০৩ মে ২০২৩ ১২:০২ পিএম

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি অরণ্যে ছায়াঘেরা বিজয় পাড়াবন। প্রবা ফটো

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি অরণ্যে ছায়াঘেরা বিজয় পাড়াবন। প্রবা ফটো

তীব্র দাবদাহে অনেক এলাকায় যখন পানির জন্য হাহাকার, তখন পাহাড়ি পাড়াবনে সহজে সুপেয় পানি মেলে। পাহাড়ি পাড়ার কাছে এই বন। তাই নাম পাড়াবন।

বান্দরবান শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে আলেক্ষ্যং ইউনিয়নে আছে এমনই এক পাড়াবন। বিজয় পাড়াবন। সম্প্রতি পরিদর্শনে গেলে পাড়াপ্রধান প্রতিজয় তঞ্চঙ্গ্যা জানান, পাড়াবনে চৈত্র মাসেও পানি থাকে।

একেকটি পাড়াবন যেন ছোট্ট নিবিড় জঙ্গল। তাই পশুপাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এখানে শিকার নিষিদ্ধ বলে কেউ শিকার করে না। শুধু পানি না, এ বনে মেলে বাঁশ-কাঠ-বেত প্রভৃতি। তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এ বছর তারা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার বাঁশ বিক্রি করেছেন।

বিজয় পাড়াবন ১৭৫ একর জায়গায় গড়ে উঠেছে জানিয়ে পাড়াপ্রধান বলেন, তাদের পাড়াবনে তিনটি ছোট ছোট ঝিরি রয়েছে। ঝোপঝাড়, বাঁশগাছে পরিপূর্ণ ঘন জঙ্গল হওয়ায় এসব ঝিরিতে সারা বছর পানি থাকে। সেই পানি পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। বিজয়পাড়ার গৃহিণী মেথলি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আগে পানির অভাব ছিল। এখন চৈত্র মাসেও পানি থাকে। গ্রামের নারীদের পানি নিয়ে আর চিন্তা করতে হয় না।

তিন বছর পরপর পাড়াবন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। সাত সদস্যবিশিষ্ট পাড়াবন পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুশলচন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পাকিস্তান আমল থেকেই এ পাড়াবনকে গ্রামবাসী সংরক্ষণ করছেন। বর্তমানে এ বনে ৫০ থেকে ৬০ বছরের পুরোনো বড় বড় গাছ আছে। যে গাছগুলো মরে যায়, সেগুলো পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিক্রি করা হয়। প্রতিবছর ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে একবার পাড়াবন থেকে বাঁশ সংগ্রহ করা হয়। বাড়িঘরসহ ক্ষেত-খামারে ঘেরা দিতে বাঁশের প্রয়োজন হয়।

গঠনতন্ত্র মোতাবেক পাড়াবন পরিচালনা করা হয়। পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত কোনো সদস্য অমান্য করলে জরিমানার মুখে পড়তে হয়। পাড়াবন থেকে কোনো কিছু চুরি করলে বা গঠনতন্ত্রের বাইরে কেউ কিছু করলে তার বিচার হয়। বাঁশ চুরি করলে ৫০০ টাকা জরিমানা। গাছ কাটলে গাছের আকার অনুসারে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়। বেত চুরি করলে বেতের পরিমাণ অনুযায়ী জরিমানা দেওয়ার বিধান রয়েছে গঠনতন্ত্রে। পরিচালনা কমিটিকে না জানিয়ে কেউ পাড়াবনে প্রবেশ করতে পারে না। 

চুরির তথ্য প্রমাণ করতে পারলে পাড়াবন কমিটি থেকে তাকে ১০০ বাঁশ পুরস্কার দেওয়া হয়। পাড়াবনে কড়ই, গর্জন, গামার, বৈলাম, চিবিট, জারুল, বান কোলা, গোদা, গুটগুটিয়া, আমড়া, আমলকী, হরীতকী, ধূপগাছসহ বনজ ও ঔষধি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির লতা রয়েছে। বাঁশের মধ্যে মিতিঙ্গা বাঁশ, পায়া বাঁশ, ডলু বাঁশ, ওরা বাঁশ রয়েছে। হরিণ, বানর, ভীমরাজ, অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ ১৭৫ একর এলাকার এ পাড়াবনে। 

পার্বত্য চট্টগ্রামে আরও কিছু পাড়াবন আছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার আন্দোলন কমিটির বান্দরবান চ্যাপ্টারের সভাপতি জোয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, সবচেয়ে বড় রুমা উপজেলা, রেমাক্রী প্রাংসা ইউনিয়নে সুং সং পাড়াবন প্রায় ৪০০ একর, রোয়াংছড়ি উপজেলার ৩৪৩ নং আলেক্ষ্যং মৌজায় সুয়ান বিল পাড়াবন প্রায় ৩০০ একর। বান্দরবান জেলায় ২৩১টি পাড়াবনের হিসাব রয়েছে বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, বান্দরবান জেলার সাত উপজেলায় ছোট-বড় অনেক পাড়াবন আছে। তার মধ্য সবচেয়ে বেশি রুমা উপজেলায় আছে ১১৪টি, এ ছাড়া রোয়াংছড়ি উপজেলায় ৩২টি, থানচিতে ২৫টি, আলিকদমে ৩৬টি, লামায় ১১টি, নাইক্ষ্যংছড়িতে ৭টি এবং সদর উপজেলায় ৬টি পাড়াবন রয়েছে বলে জানান তিনি।

পাড়াবনের মাধ্যমে পাড়াবাসী একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, নিরাপদ পানি পেয়ে পাচ্ছে; অন্যদিকে পাড়াবাসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও রক্ষা পাচ্ছে। আবার বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে জানান তিনি। 

একেকটি পাড়াবন ৪০ একর থেকে ৪০০ একর পর্যন্ত বিস্তৃত জানিয়ে জোয়াম লিয়ান আমলাই বলেন, বান্দরবান জেলায় ২৩১টি পাড়াবনের সংখ্যা পেলেও দুর্গম এলাকায় আরও কিছু পাড়াবনের আয়তন পরিমাপ করা যায়নি বলে জানান তিনি।

বান্দরবান বিভাগের বন কর্মকর্তা হক মাহাবুব মোর্শেদ বলেন, বান্দরবান জেলার পাড়াবনের এখনও সুনির্দিষ্ট তালিকা করা হয়নি। তবে প্রতিবছর বিভিন্ন পাড়াবন পরিচালনা কমিটিকে বন বিভাগ থেকে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়। গত বছর জুলাই মাসে এক লাখ চারা বিতরণ করা হয়েছিল, চলতি বছর জুলাই মাসে ৫০ হাজার বিভিন্ন ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করার টার্গেট রয়েছে বলে জানান এ বন কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা