নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৩ ২২:৩২ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৩ ২২:৫৯ পিএম
মুক্তি বর্মণ। প্রবা ফটো
নেত্রকোণায় স্কুল থেকে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে মুক্তি বর্মণ নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক বখাটে। মঙ্গলবার (২ মে) বিকালে জেলার বারহাট্টা উপজেলার ছালিপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মুক্তি বর্মণ উপজেলার প্রেমনগর গ্রামের নিখিল বর্মণের মেয়ে এবং প্রেমনগর ছালিপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন কুমার সাহা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওসি বলেন, মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।
নিহত স্কুলছাত্রীর পরিবারের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, মুক্তি বর্মণকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল একই গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে কাউছার মিয়া। বিষয়টি তার পরিবারকেও জানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার স্কুল থেকে ফেরার পথে মুক্তির পথরোধ করে তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে বখাটে কাউছার। পরে তাকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকেরা তাকে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মুক্তির সহপাঠীরা জানিয়েছে, বিকাল ৩টার দিকে স্কুল থেকে তারা একসঙ্গে বাড়িতে ফিরছিল। স্কুলের প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছালিপুরা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ কাউছার দা দিয়ে মুক্তিকে কোপাতে শুরু করে। এ সময় তারা ভয় পেয়ে চিৎকার শুরু করে। পরে স্থানীয়রা গিয়ে মুক্তিকে উদ্ধার করে।
প্রেমনগর ছালিপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের আকন্দ বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মুক্তি। মেয়েটি শান্ত ও মেধাবী ছিল। সে মানবিক শাখার ছাত্রী ছিল। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। আমরা বখাটে তরুণকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাই।’