পিরোজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৩ ২০:৩৯ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৩ ২১:৫৪ পিএম
উদ্ধারের পর গাড়িতে মোহাম্মদ শামীম হোসেন। প্রবা ফটো
দালালের খপ্পরে পড়ে দুবাই যাওয়া মোহাম্মদ শামীম হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম। প্রতিদিনের বাংলাদেশে ‘দালালের খপ্পরে ভাণ্ডারিয়ার শামীম, দুবাই থেকে ভিডিওবার্তায় বাঁচার আকুতি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে মিরাজুল ইসলামের নির্দেশে সোমবার (১ মে) দুবাইয়ে থাকা তার পরিচিত মোহাম্মদ মঞ্জু শামীমকে উদ্ধার করেন।
এরপর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভিডিওবার্তা পাঠিয়েছেন শামীম। তিনি বলেন, ’আমাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমি এখন ভালো আছি। আমার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মহিউদ্দিন মহারাজ ও মিরাজুল ইসলাম মিরাজ জানতে পেরে তাৎক্ষণিক উদ্ধারের জন্য দুবাইয়ে থাকা তার পরিচিত ভাই মঞ্জুকে নির্দেশ দেন। তিনি মোবাইলে যোগাযোগ করে শামীমকে উদ্ধার করে নিয়ে একটি হোটেলে রাখেন। মিরাজুল ইসলামের আর্থিক সহযোগিতায় মঞ্জু দূতাবাসের মাধ্যমে দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে দেশে আসতে পারব বলে আশাবাদী।’
দালাল দুলাল হাওলাদারের খপ্পরে পড়ে ভাণ্ডারিয়ার নদমূলা ইউনিয়নের দারুলহুদা গ্রামের আব্দুল হাই সরদারের ছেলে মোহাম্মদ শামীম হোসেন চার লাখ টাকার বিনিময় ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ দুবাই যান। দুবাই গিয়ে পাল্টে যায় দুলালের চেহারা। ছিনিয়ে নেয় পাসপোর্ট, নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। দাবি করে আরও আড়াই লাখ টাকা। টাকা দিতে না পারায় চলে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দুবাইয়ের অজ্ঞাত স্থানের একটি রুমে রেখে যাওয়ার পর প্রায় তিন মাস হয়ে গেলেও সেই দুলাল হাওলাদার শামীমের কোনো চাকরির সন্ধান দেয়নি।
সম্প্রতি দুলাল শামীমের ওপর শারীরিক নির্যাতন করে এবং আবারও আড়াই লাখ টাকা চায়। ওই টাকা দিলে সে শামীমকে দেশে পাঠাবে বলে জানায়। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই বন্দিদশা থেকে পালিয়ে দুবাইয়ে ভাণ্ডারিয়া এলাকার পরিচিত এক লোকের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেন শামীম। এ অবস্থায় এক ভিডিওবার্তায় পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের কাছে তাকে বাঁচানোর আকুতি জানান। এরপরই বিষয়টি নজরে আসায় তারা ব্যবস্থা নেন।
শামীম জানান, দেশে আসার পর দুলালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুবাইয়ে অবস্থানরত মোহাম্মদ মঞ্জু জানান, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এর আগেও দালালের মাধ্যমে দুবাইয়ে আসা তিন থেকে চার বাংলাদেশিকে নিজের খরচে উদ্ধার করে দেশে পাঠিয়েছেন।