রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৩ ১৫:৫৪ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৩ ১৬:১৪ পিএম
নগরীর জিরো পয়েন্টে রাজশাহী জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশে এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। প্রবা ফটো
কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবার পর রাজশাহী নিঃস্ব হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজশাহীর অনেক উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু রাজশাহীর কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে লাল-নীল বাতির কী মূল্য থাকবে, আমি জানি না। সরকারকে নিন্দা জানাতে জানাতে তো আমরা আজকে আর পথ খুঁজে পাচ্ছি না।
সোমবার (১ মে) বেলা ১১টায় নগরীর জিরো পয়েন্টে রাজশাহী জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আজও শ্রমিকরা বঞ্চিত-লাঞ্ছিত ও শোষিত। তারা তাদের পরিশ্রমের উপযুক্ত মূল্য পায় না। সবচেয়ে বেশি শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক দিকে তাদের আয় নাই। অন্যদিকে তাদের আয় ৪০ ভাগ কমে গেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবার ফলে শ্রকিদের পাশাপাশি কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে বাদশা বলেন, 'রাজশাহীর পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে, চিনিকল বন্ধ হয়ে গেছে, সুতাকল বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বহু কষ্টে রেশম কারখানা আমরা চালু রেখেছি। তাও রেশম কারখানার শ্রমিকরা ঠিকমতো বেতন পাচ্ছে না। পাটকলের শ্রমিকরা যখন অনশন করছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রমিক ফেডারেশন যোগ দিয়েছিল। চিনিকল বন্ধ হয়ে যাবার পর কারখানার গেটে অনশন ধর্মঘট করেছি, প্রতিবাদ জানিয়েছি। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবার পর রাজশাহী নিঃস্ব হয়ে গেছে।'
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, 'পাটকল, চিনিকল, সুতাকল যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন নিন্দা জানাব কাকে। সরকারকে নিন্দা জানাতে জানাতে তো আমরা আজকে আর পথ খুঁজে পাচ্ছি না। পথ একটাই আছে। নিন্দা জানানো নয়। মে দিবসে আজ শপথ নিতে হবে সংগ্রামী শপথ। পাটকল খুলে দিতে হবে। চিনিকল চালু রাখতে হবে। পাটকল বন্ধ হওয়ার পর কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনিকল বন্ধ হয়ে যাবার ফলে আঁখ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জবাব কে দেবে। এর জবাব কেউ দেয় না।'
শ্রমিকদের শোষণ নিয়ে রাজশাহী-২ আসনের এমপি বলেন, যাদের রক্তে বাংলাদেশ, যাদের জন্য বাংলাদেশ, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে। তাদের কোনো রক্ষাকবজ নাই। তা হতে পারে না। কিছু মানুষ রাতারাতি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়। আর আমাদের দেশে শ্রমিক, কৃষক আরও গরিব হয়ে যায়। বাজারে এসে ফসলের মূল্য পায় না। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়, বকেয়া মজুরি পায় না শ্রমিকরা।
জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের রাজশাহী জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল রহমান খান সভাপতিত্বে করেন। জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম অপু সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, জেলার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, মহানগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাদ্রুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।