বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৩ ১৫:২৭ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৩ ১৫:৫৬ পিএম
বিলুপ্তপ্রায় গন্ধগোকুল উদ্ধারের সময় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। প্রবা ফটো
বগুড়ায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির একটি গন্ধগোকুলের আক্রমণে তিনজন আহত হয়েছেন। পরে গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করেছেন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবাদী সংগঠন টিম ফর অ্যানার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের (তীর) সদস্যরা।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে শহরের দত্তবাড়ি সোনালি ব্যাংকের পাশে মোস্তফা অভির বাসা থেকে গন্ধগোকুলটি উদ্ধার করা হয়।
তার আগে গন্ধগোকুলের কামড়ে আহতরা হলেন- তৌফিক হাসান হিমু, ফরহাদ হোসেন, ফাতেমা বেগম।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তীরের সাধারণ সম্পাদক হোসেন রহমান বলেন, 'স্থানীয়দের দেওয়া খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিলুপ্তপ্রায় গন্ধগোকুলটিকে উদ্ধার করি। আমাদের সহযোগিতা করেন সামাজিক বন বিভাগের একটি টিম। পরে প্রাণীটিকে সামাজিক বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসলে পর্যাপ্ত খাবার থাকায় ওই এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাসায় গন্ধগোকুল বাসা বেঁধেছে। গন্ধগোকুলের আক্রমণে যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে স্যাভলন দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করার পর সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছি। তবে গন্ধগোকুল এভাবে সচরাচর মানুষকে কামড় দেয় না। তবে এটা কেন জানি না হিংস্র হয়ে পড়েছে।'
তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে প্রজাতিটি সংরক্ষিত এবং জাতিসংঘের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী বিষয়ক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন নেচারের (আইইউসিএন) মতে বিপন্ন প্রজাতিতে অন্তর্ভুক্ত। একসময় গন্ধগোকুল প্রচুর পাওয়া গেলেও বর্তমানে তেমন চোখে পড়ে না।
তীরের উপদেষ্টা আরিফুর রহমান জানান, গন্ধগোকুল নিশাচর খাটাশের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এরাই মানুষের বেশি কাছাকাছি থাকে। দিনের বেলা বড় কোনো গাছের ভূমি সমান্তরাল ডালে লম্বা হয়ে শুয়ে থাকে, লেজটি ঝুলে থাকে নিচের দিকে। মূলত ফলখেকো হলেও কীটপতঙ্গ, শামুক, ডিম-বাচ্চা-পাখি, ছোট প্রাণী, তাল-খেজুরের রসও খায়। অন্য খাদ্যের অভাবে মুরগি-কবুতর ও ফল চুরি করে। এরা ইঁদুর ও ফল-ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকার করে।