গাজীপুর সিটি নির্বাচন
রেজাউল করিম
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫০ পিএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৩৮ পিএম
সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমে ও তার মা জায়েদা খাতুন। প্রবা ফটো
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন বাতিল করেছেন নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা। তার মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, জাহাঙ্গীর আলম ঋণখেলাপি। তবে তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, 'জাহাঙ্গীর আলমের অন্যান্য তথ্য সঠিক থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণের জামিনদার ছিলেন তিনি। ওই ঋণখেলাপির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।'
তবে জাহাঙ্গীর আলম তার মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করতে পারবেন বলেও জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর বলেন, 'গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মধ্যে কোনাবাড়ী এলাকায় কোরিয়ান মালিকানাধীন একটি কম্পোজিট কারখানা রয়েছে। ওই কোম্পানির মধ্যে আমার কোনো শেয়ার নেই। কোনো লভ্যাংশও নেই না। তবুও হাজার হাজার শ্রমিকদের বাঁচানোর জন্য মানবিক কারণে আমার নিজের সম্পদ দিয়েছি। ওই ব্যাংকের মর্টগেজ নিয়ে সেই কোরিয়ান মালিক লোন নিয়ে কারখানাটি চলমান রেখেছে।'
করোনা মহামারির কারণে কোরিয়ানরা ব্যাংকে যথাসময়ে ওই পেমেন্ট দিতে পারেননি বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, 'আমি প্রার্থী হওয়ার পর গত ১১ এপ্রিল ও ১৮ এপ্রিল কোরিয়ানরা বাংলাদেশ ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের যে পাওনা ছিল তা পরিশোধ করেছে।'
সাবেক মেয়র বলেন, 'সেই সমস্ত কাগজপত্র আইনজীবী এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। তার পরও আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা থেকে সরে গেছে। কোনো অদৃশ্য শক্তির চাপে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা থেকে সরে গেছেন কি না জানি না। আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ব্যাংকের পাওনার ইনস্টলমেন্ট জমা দেওয়ার কথা কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিক জবানবন্দি দিয়েছে। তারপরও আপনারা যে কাজটি করলেন তাতে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। আপনারা নিরপেক্ষতার মধ্যে ছিলেন না। তবে আমি ন্যায়বিচার পেতে আপিল করব। প্রয়োজনে আমি সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টে যাব। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে চাই।'
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, 'আমরা মনোনয়নপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করেছি। জাহাঙ্গীর আলমের অন্যসব কাগজপত্র সঠিক আছে। তবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো তথ্যে সমস্যা রয়েছে। এর স্বপক্ষে জাহাঙ্গীর আলম ব্যাংকে টাকা জমা করার কিছু কাগজপত্র আমাদের কাছে দিয়েছেন। তবে তা আমার কাছে যথার্থ মনে হয়নি। এ জন্য জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রার্থীর আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তাই তিনি আপিল করতে পারবেন।'
এর আগে জাহাঙ্গীর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে নৌকা প্রতীক চেয়ে আবেদন করেন। তবে দল তাকে মনোনয়ন না দিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। মেয়র পদে তার মনোনয়নপত্র জমাদানের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার মা জায়দা খাতুনেরও মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে মেয়র পদে জাহাঙ্গীর আলমের মা স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর জাহাঙ্গীর ছাড়া আরও দুজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ৩০০ জন সমর্থনকারীর স্বাক্ষরবিহীন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় অলিউর রহমান ও যথাযথ কাগজপত্র না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
অবশ্য তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আজ রবিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। সিটি করপোরেশনটিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৮ মে। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৯ মে। আগামী ২৫ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।