ঝড়ে বিয়ের ট্রলারডুবি
পটুয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:০৯ পিএম
আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৩৬ পিএম
শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। নিখোঁজদের সন্ধান না পেয়ে শনিবারও উদ্ধার তল্লাশি চলছে। প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে বিয়ের ট্রলারডুবির ঘটনায় বর ও বরের মাসহ নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ও নৌ-পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (দুপুর সাড়ে ১২টা) নিখোঁজ কারও সন্ধান মেলেনি বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের আউলিয়াপুর লঞ্চঘাটসংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে বরযাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে বরের ফুপুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নদীতে নিখোঁজ হন বর ও তার মাসহ আরও দুই শিশু।
মৃত লিপি বেগম বর রাব্বি হাওলাদারের ফুপু এবং উত্তর রনগোপালদী এলাকার ধলু হাওলাদারের স্ত্রী।
বর রাব্বি হাওলাদার ও তার মা সেলিনা আক্তার ছাড়াও নিখোঁজ আরও দুজন হলো উত্তর রনগোপালদী এলাকার ধলু হাওলাদারের মেয়ে শিশু খাদিজা এবং উত্তর চর শাহজালাল এলাকার বেল্লাল মুন্সির মেয়ে শিশু মানসুরা।
তাদের উদ্ধারে শনিবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের পটুয়াখালী ও বরিশাল থেকে আসা দুটিসহ তিনটি ইউনিট কাজ করছে। তবে দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ কারও সন্ধান মেলেনি বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাফিসা নাজ নীরা। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে বরের স্বজনদের বরাতে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, কয়েক দিন আগে দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের গুলি আউলিয়া গ্রামের মনির হাওলাদারের ছেলে রাব্বি হাওলাদারের সঙ্গে চরবোরহান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ুন মুন্সির মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়।
গত মঙ্গলবার বর রাব্বি হাওলাদার স্বজনদের নিয়ে নববধূকে আনতে কনের বাড়িতে যান। গতকাল শুক্রবার বিকালে নববধূ সুমাইয়াসহ ১৪-১৫ জন আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে ভোলার চরবোরহান থেকে ট্রলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। আউলিয়াপুর লঞ্চঘাটের কাছাকাছি এলে ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে তাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। কনেসহ অনেকে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন পাঁচজন।
পরে ঘটনাস্থল থেকে বরের ফুপু লিপি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে লোকজন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মধ্যরাত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও বর রাব্বি হাওলাদার, তার মাসহ চারজনকে খুঁজে পাননি। এ ছাড়া সারা রাত অন্য জেলেরাও তাদের খোঁজে নৌকা নিয়ে তল্লাশি চালান।
দশমিনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লিডার আনোয়ার হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শনিবার পটুয়াখালী ও বরিশাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট তল্লাশিতে যোগ দিয়েছে। এখনও অভিযান চলছে। নিখোঁজ চারজনের কাউকে পাওয়া যায়নি।