লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:০০ পিএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:১৬ পিএম
মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ। ফাইল ফটো
লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্টাফ কোয়ার্টারে খুন হওয়া মমতাজ বেগমের ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম রকিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার রাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার নিহত মমতাজের মেয়ে রোজি আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা করেন।
সদর মডেল থানার ওসি মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ’ঘটনার পর থেকেই রকি পলাতক ছিলেন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। এখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।‘
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ সাংবাদিকদের জানান, মমতাজকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কসাই যেভাবে মাংস কাটে, সেভাবে তার দুই হাত ও দুই পা কাটা হয়েছে। এটি বীভৎস দৃশ্য ছিল।
মমতাজের বড় ছেলে শরীফুল ইসলাম বাপ্পীসহ স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এসপি জানান, গ্রামের বাড়িতে মমতাজ ও তার বড় ছেলে বাপ্পী ঈদ করতে যায়। কিন্তু ছোট ছেলে রকি সেখানে যায়নি। সে কোয়ার্টারেই ছিল তিন দিন ধরে। ছোট ছেলের সঙ্গে মমতাজের মনোমালিন্য ছিল। গত সোমবার সকালে বড় ছেলে বাপ্পী তার মাকে বাসে উঠিয়ে দেয় এখানে আসার জন্য। কিন্তু তখন বড় ছেলে আসেনি। এখানে ছোট ছেলে ছিল। পরে মমতাজের মরদেহ উদ্ধার করলেও ছোট ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, স্টাফ কোয়ার্টারটিতে রক্ত দেখা গেছে বলে সোমবার রাতে ৯৯৯-এ কল আসে। এতে সদর মডেল থানার ওসি মোসলেহ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল যায়। বাসার সামনের দরজা বন্ধ ছিল। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পেছনের দরজা দিয়ে বাসায় ঢোকে পুলিশ। সেখানে তারা মেঝেতে মাংসের টুকরো পড়ে থাকতে দেখে। তখনও বোঝা যায়নি সেটি কিসের মাংস ছিল। পরে একটি পাটি দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মমতাজ বেগমের শরীরের কাটা অংশ দেখতে পায় পুলিশ।
জানা গেছে, নিহত মমতাজ বেগম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের মৃত আব্দুল মতিনের স্ত্রী। তার স্বামী সড়ক বিভাগে চাকরি করতেন। স্বামী মতিন মারা যাওয়ার পর থেকেই মমতাজ তার দুই ছেলে বাপ্পী ও রকিকে নিয়ে সড়ক বিভাগের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছেন। তার বড় ছেলে বাপ্পী বর্তমানে মাস্টার রুলে সড়ক বিভাগে কর্মরত।