কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:১৪ পিএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:৩৬ পিএম
কর্ণফুলী নদীর ডুবোচরে আটকে আছে বোট। প্রবা ফটো
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কর্ণফুলী। এটি ভারতের মিজোরাম প্রদেশের লুসাই পাহাড় থেকে শুরু হয়েছে। পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। ১৬১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ নদীর কাপ্তাই উপজেলার বেশ কিছু স্থানে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। ফলে মাঝনদীতেও এখন হাঁটুপানি। দিন দিন নাব্যতা হারাচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল। প্রায় প্রতিদিনই ডুবোচরে আটকা পড়ছে বিভিন্ন জলযান। নদীটি দ্রুত খননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি নদীর থানাঘাট, লিচুবাগান, চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতাল এলাকাসহ কয়েকটি ঘাটে দেখা গেছে, ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো হাঁটুপানিতে আটকে আছে। পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীসাধারণসহ চালকদের।
অনেক বছর নদীতে যাত্রী পারাপার করছেন কাপ্তাই থানাঘাট এলাকার মাঝি রুস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘নদীতে চর জেগে ওঠায় যাত্রী পারাপার করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগের কারণে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ নদী পার হতে চায় না। আমাদের আয় রোজগার অনেক কমে গেছে। এর আগে কর্ণফুলী নদীতে এভাবে চর জেগে উঠতে দেখিনি। নদী খননে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে।’
মিশন হাসপাতাল ঘাটের বোটচালক আবদুর রহমান, ইউসুফ মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন জানান, দিন দিন কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে চর জাগছে। এখন থেকে যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তবে ভবিষ্যতে ব্যাপক সমস্যা হবে। আমাদের এই পেশা হয়তো ছেড়ে দিতে হবে।
উপজেলার নারানগিরি এলাকার বাসিন্দা থোয়াইসু প্রু মারমা, কল্যাণী দাশসহ কয়েকজন বলেন, চর জেগে ওঠায় অনেক মাঝি নৌকা চালাতে চান না। এতে নদী পার হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। জোয়ারে পানি বাড়লে তখন পারাপার হওয়া গেলেও ভাটার সময় একদম পানি শুকিয়ে যায়, তখন দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শওকত আলী জানান, তিনি সব সময় রাইখালী কৃষিফার্ম থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনে এনে দোভাষী বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু বর্তমানে মালামাল আনতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মালামাল নিয়ে নদী পার হতে তাকে জোয়ার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
কর্ণফুলী নদীর পাড়েই অবস্থিত নারানগিরি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির কয়েকজন শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টিতে নদীতে পানির প্রবাহ একদম কমে গেছে। বিকালে জোয়ার এলে তখন নদীতে পানি বাড়ে। আর তখনোই মানুষ নদী পারাপারসহ নদীকেন্দ্রিক বিভিন্ন কাজকর্ম করে থাকেন। তবে টানা বৃষ্টিপাত না হলে কিংবা তীব্র দাবদাহ চলমান থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানতে চাইলে রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, ‘কাপ্তাই বাঁধ দেওয়ার পর কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং করা হয়নি। নদীর কিছু এলাকায় চর জেগেছে। নদীর ডাউন সাইটে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাউবোর ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীর নারানগিরি থেকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তখন নাব্যসংকট দূর হবে।’