বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৫২ পিএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:৫৮ পিএম
খানহাজার আলী (রহ.) মাজারে কুমির 'পিলপিল'।
বাগেরহাটের খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘির কুমির 'পিলপিল' ডিম দিয়েছে। এবার এই মা কুমিরটি প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি ডিম দিয়েছে। তবে এই ডিম থেকে বাচ্চা ফোটা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়রা।
বর্তমানে মাজার দীঘিতে দুইটি কুমির রয়েছে। এর মধ্যে নারী কুমিরটির নাম পিলপিল আর পুরুষটির নাম মাদ্রাজ।
মাজারের পূর্ব ঘাটে বিনা ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন পাড়ে গর্তের মধ্যে ডিম দিয়েছে পিলপিল। সেখানেই ডিমগুলো ফোটানোর জন্য তা দিচ্ছে কুমিরটি। তবে গত বছর কয়েকবার ডিম দিলেও এই কুমিরের কোনো বাচ্চা ফোটেনি। যার কারণে কুমিরের ডিম দেওয়া নিয়ে মাজারের ফকিরদের মাঝেও তেমন কোনো আগ্রহ নেই।
এদিকে বার বার ডিম দিলেও বাচ্চা না ফোটার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করেছে বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে কুমিরগুলো। তাই তাদের ডিমে বাচ্চা ফুটছে না।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, বয়স বাড়ার কারণে কুমির দুটি বারবার ডিম দিলেও কোনো বাচ্চা হচ্ছে। এছাড়া এখানে থাকা কুমিরদের খাবারের বিষয়ে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। মাজারে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীরা খাবার হিসেবে ইচ্ছেমাফিক চর্বিযুক্ত মাংস দিয়ে থাকেন। যার ফলে কুমির দুটোর পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমে গেছে। বাচ্চা না ফোটার এটাও অনেক বড় একটি কারণ। তবে নতুন করে অল্প বয়সী দুটি নারী-পুরুষ কুমির দীঘিতে ছাড়তে পাড়লে বাচ্চা ফোটানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের প্রধান খাদেম ফকির শের আলী বলেন, প্রায় মাস খানেক আগে কুমিরটি দীঘির পূর্ব পাড়ের বিনা ফকিরের বাড়ির পাশে ডিম পেড়েছে বলে অনুমান করছি। তবে কয়েকদিন আগে সেগুলো আমাদের চোখে পড়েছে। এ নিয়ে অনেকবার মা কুমিরটি দিঘীতে ডিম পেড়েছে। কিন্তু কখনও বাচ্চা হয়নি। এভাবে বাচ্চা না হলে কুমিরের বংশবৃদ্ধি হবে না। মাজারের দীঘি থেকে মিঠা পানির কুমির হারিয়ে যাবে। এতে করে মাজারের ঐতিহ্যও ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
সুলতানী শাসন আমলে খ্রিস্টীয় ১৪ শতকের প্রথম দিকে হযরত খান জাহান আলী (রহ.) বাগেরহাটে ‘খলিফতাবাদ’ নগর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় তিনি ৩৬০টি দীঘি খনন করেন। এর মধ্যে সব থেকে বড় ‘ঠাকুর দীঘি।’ স্থানীয়দের ধারণা এই দীঘির আয়তন ৩৬০ একর। এ দিঘীর পাড়েই রয়েছে তার সমাধি। এই দীঘিতে তিনি দুটো মিঠাপানির প্রজাতির কুমির এনেছিলেন। যাদের নাম ছিল ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’।
এরই মাঝে মাজারের দীঘিতে মিঠাপানির কুমিরের বংশবিস্তারের জন্য ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে ছয়টি কুমির এনে ছাড়া হয়। মাদ্রাজি কুমির হিংস্র প্রকৃতির হয়। তাদের মারামারির কারণে হযরত খানজাহানের (রহ) সময়কার একটি কুমির ‘কালাপাহাড়’ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ২০০৬ সালে কুমিরটি মারা যায়। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অবশিষ্ট একটি কুমির ধলাপাহাড়ের মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে খানজাহান আলী (রহ) এর আমলের কুমির যুগের সমাপ্তি ঘটে। এই সময়ে মাদ্রাজ থেকে আনা ৬টি কুমিরের চারটি কুমির মারা যায়। বর্তমানে মাজার দিঘীতে দুইটি কুমির রয়েছে।