সিসিকের সীমানা সম্প্রসারণ
কাওছার আহমদ, সিলেট
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৩০ পিএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৫৫ পিএম
সিলেট সিটি করপোরেশন। ফাইল ছবি
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সীমানা সম্প্রসারণ করে সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তিন ইউনিয়নকে এর আওতায় আনা হয়েছে আগেই। এতে আয়তন ৫৩ বর্গকিলোমিটার বেড়ে মোট সাড়ে ৭৯ বর্গকিলোমিটার হয়েছে। এসব বর্ধিত এলাকায় তিন লাখের বেশি মানুষের বাস। এসব এলাকার পাড়া-মহল্লায় কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, স্যানিটেশন ও খাবার পানি সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। নতুন করে যুক্ত এই তিন লাখের বেশি মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাই এখন হবে সিসিকের প্রথম চ্যালেঞ্জ।
সিলেট জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২১ সালের ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ গেজেট প্রকাশ করে সদর উপজেলার টুকেরবাজার, খাদিমনগর, খাদিমপাড়া ও টুলটিকর ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই, বরইকান্দি ও তেতলী ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করে করপোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণ করা হয়। সেই সঙ্গে বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর জনসংখ্যা যোগ হয়ে বর্তমানে সিসিকের জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি।
দক্ষিণ সুরমার তিন ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত করে ৬ ওয়ার্ড (২৮, ২৯, ৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২) এবং সদর উপজেলার চার ইউনিয়নকে ৯ ওয়ার্ড (৩১ থেকে ৩৯) করা হয়েছে। সিসিকের পুরোনো ওয়ার্ড ছিল ২৭টি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ধিত এলাকার আরও ১৫টি ওয়ার্ড। এখন বেড়ে হয়েছে ৪২টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৪টি।
সিসিকের নতুন-পুরোনো ওয়ার্ডগুলোর ভোটার তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে সিলেট জেলা নির্বাচন কার্যালয় জানিয়েছে। তবে সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের খসড়া তালিকার তথ্যমতে, সিসিকের পুরোনো ওয়ার্ডগুলোর মোট ভোটার ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭২৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৬ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ২৫৮। নতুন ওর্য়াডগুলোর মোট ভোটসংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৪৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৪ হাজার ১৭৩ ও নারী ভোটার ৬২ হাজার ২৭৬। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে সিসিকের মোট ভোটসংখ্যা ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১৭৩ হবে।
সিসিকের পুরোনো এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। কিন্তু নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপকালে এসব সমস্যা জানা যায়।
কুচাই এলাকার বাসিন্দা সামরান সাবের জানান, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে কুচাই ইউনিয়ন। রাস্তাঘাট ও জলাবদ্ধতাসহ অনেক সমস্যা তো আছেই। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হলো সিলেট-জকিগঞ্জ রাস্তা। কুচাই এলাকার ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া এ রাস্তায় ৫-৬ উপজেলার যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু ফুটপাথ বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে থাকেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হয়। তাই জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারের সামনে স্ট্রিট ব্রেকার বা জেব্রাক্রসিং খুবই জরুরি।
খাবার পানির সংকটের কথা জানালেন বরইকান্দি এলাকার রায়ের গ্রামের বাসিন্দা ডা. আফাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, বাড়ির গভীর নলকূপ ও পুকুরের পানি খেয়ে জীবন ধারণ করেন এই এলাকার মানুষ। কিন্তু শুকনো মৌসুমে অধিকাংশ পুকুরের পানি কমে যায় এবং নলকূপ থেকে পানি উঠতে সমস্যা হয়। এতে খাবার পানির সংকট দেখা দেয়।
খাদিমপাড়ার চামেলীবাগ এলাকার বাসিন্দা তাওহীদুল ইসলাম বলেন, পাড়া-মহল্লার ভেতরের অধিকাংশ রাস্তা ছোট। একসঙ্গে দুটি গাড়ি ক্রসিং করতে পারে না। জরুরি ভিত্তিতে এগুলো প্রশস্ত করা দরকার।
কাঁচা রাস্তা ও কালভার্টের সমস্যার কথা জানালেন কুচাই এলাকার ব্যবসায়ী সৈয়দ মায়াজ আহমদ তালহা। তিনি বলেন, গ্রামের ভেতরের অনেক রাস্তা এখনও কাঁচা রয়েছে। বৃষ্টি হলেই কাদা হয়, এলাকাবাসী অনেক কষ্ট করে চলাচল করেন। এ ছাড়া ড্রেন ও কালভার্ট না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে রিকশা ও সিএনজি অটো চলাচল করে। তাই নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য রাস্তা আরও প্রশস্ত করে পাকা করতে হবে।
সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি মাহিউদ্দীন সেলিম বলেন, আসন্ন সিটি নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়রের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বর্ধিত এলাকাগুলোর মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা।
নতুন ওয়ার্ডগুলোর ভোটার তালিকার ব্যাপারে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, সিসিকের বর্ধিত নতুন এলাকার ভোটার তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এখনও প্রস্তুত হয়নি। আশা করি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
২০০১ সালের ৩১ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।