× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আড়িয়াল খাঁ নদী পারাপারে ১৫ গ্রামের মানুষের ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সেতু

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:২৯ পিএম

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:১৩ পিএম

আড়িয়াল খাঁ নদের উপর নির্মিত বাঁশের সেতুতে প্রতিদিন পার হয় ১৫-২০ গ্রামের মানুষ। প্রবা ফটো

আড়িয়াল খাঁ নদের উপর নির্মিত বাঁশের সেতুতে প্রতিদিন পার হয় ১৫-২০ গ্রামের মানুষ। প্রবা ফটো

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রাধাগঞ্জ বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদী। নদীর উপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় দুই পাশের ১৫ গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিপুল সংখ্যক মানুষের পারাপারে একমাত্র ভরসা ইজারাদার নির্মিত নড়বড়ে একটি বাঁশের সেতু। তবে বর্ষা মৌসুমে সেই সেতুও ডুবে যায়। তখন বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে নদী পার হতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তি হাটুতে ভর দিয়ে সেতু পার হচ্ছেন। লাঠি ভর দিয়ে সেতু পার হতে দেখা গেছে অন্য এক বৃদ্ধকে। মাথায় ফসল নিয়ে পার হতে দেখা গেছে গ্রামের কয়েকজন কৃষককে।

সেতুর দুই প্রান্তে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। এ ছাড়াও কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন চলাচল করে।

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই পারপার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, বাঁশের তৈরি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রসূতি ও জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছাতে বেকায়দায় পড়তে হয়। বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোতে সেতুটি ভেঙে গেলে নৌকায় পারাপার হতে হয়।  প্রায় ৪০ বছর ধরে এভাবেই চলাচল করতে হচ্ছে।

হাসান সরকার নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ বলেন,  নদীতে স্থায়ী সেতু না থাকায় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হয়। শিশু-নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের ভোগান্তি আরও বেশি। ভারী বৃষ্টি হলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। প্রায় ৪০ বছর ধরে এভাবেই চলছে। বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেছি, সবাই আশ্বাস দিলেও সেতু আর হয়নি।

প্রতিবন্ধী বাদল মিয়া বলেন, বাঁশের সেতু দিয়ে আসা-যাওয়া করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। একটু বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তখন আমদের মতো প্রতিবন্ধীদের পাড়ে বসে থাকতে হয়। পার হতে পারি না। এই সেতু দিয়ে শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার প্রায় ১৫-২০ টি গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে।

স্থানীয় বাসিন্দা ঢাকার ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সেতুর পরিবর্তে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তখন ঢাকা থেকে আসতে রাত হলে নৌকাও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে পাড়ে বসে থাকতে হয়। তাছাড়া বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে নদী পারাপারের সময় নৌকা ডুবির মতো ঘটনাও ঘটে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও রোগীদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সেতুটির ইজারাদার হিরণ মিয়া বলেন, এখানে কোনো স্হায়ী সেতু না থাকায় এলাকাবাসী অনেক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে কষ্টের সীমা থাকে না। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নৌকাডুবি হয়। এই সাঁকো দিয়ে শিবপুর, রায়পুরা, মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার লোকজন যাতায়াত করে।এখানে ঐতিহ্যবাহী রাধাগঞ্জ বাজার অবস্থিত। একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে রাধাগঞ্জ বাজারসহ এলাকার অনেক উন্নয়ন হবে।

আদিয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী সেলিম মিয়া বলেন, এই নদীর উপর একটি সেতু না থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

রায়পুরা  উপজেলা প্রকৌশলী মো. শামীম ইকবাল মুন্না  বলেন, সমীক্ষা যাচাই ও সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পরও এটি ‘খ’ শ্রেণির নদী‘ হওয়ায় সেতুটি বাস্তবায়ন হতে দেরি হচ্ছে। 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা