রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৫১ পিএম
আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:২৩ পিএম
প্রতীকী ছবি
দুইদিন ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে আছে ভারতীয়
নাগরিক মনিরুল মোল্লার মরদেহ। শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াতে এসে তিনি মারা যান। ভিসা জটিলতার
কারণে মরদেহ নিতে ভারত থেকে আসতে পারেনি তার পরিবার।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) গংগাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
দুলাল হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
গংগাচড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা
জেলার দক্ষিণ কালশুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্লার ছেলে মনিরুল মোল্লা। ঢাকার একটি গার্মেন্টসে
তিনি কর্মরত ছিলেন।
দুই বছর আগে চাকরির সুবাধে পরিচয় হয় গংগাচড়া উপজেলার ধামুর বোল্লারপাড়
গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে মোকাররমা খাতুনের সঙ্গে। পরে তারা ২০২১ সালে বাংলাদেশি
নাগরিকের পরিচয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হলফনামার মধ্যে দিয়ে তারা
বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন।
বিয়ের পর মনিরুল ভারতে চলে যান। এক মাস আগে স্ত্রীকে ভারতে নিতে তিনি
শ্বশুরবাড়ি রংপুরে আসেন। ঈদের পর দিন রবিবার (২৩ এপ্রিল) মনিরুল বুকের ব্যথা নিয়ে গংগাচড়া
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা
যান। পরে পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এবং ভারতীয়
হাই কমিশন ও তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়। ভিসা জটিলতার কারণে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ
নিতে না আসায় দুইদিন ধরে মনিরুলের মরদেহ রংপুর মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে আছে।
ওসি দুলাল হোসেন জানান, মনিরুল মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি
অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো
হয়েছে। বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা রয়েছে।
তিনি জানান, পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে। তারা ভারতে যোগাযোগ করে মরদেহটি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। মনিরুলের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার বাবা মরদেহ নিতে আসবেন বলে আমাদের জানান। তবে ভিসা জটিলতার কারণে তিনি বাংলাদেশে আসতে পারছেন না।