কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:১০ পিএম
নিজ বাড়ির আঙিনায় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন তৈরিতে ব্যস্ত বিনতা তঞ্চঙ্গ্যা। প্রবা ফটো
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের সাক্রাছড়ি এলাকার বাসিন্দা বিনতা তঞ্চঙ্গ্যা। ৯ বছর আগে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যান স্বামী বিনময় তঞ্চঙ্গ্যা।
এরপর থেকেই সংসারের বোঝা এসে পড়ে তার ঘাড়ে। তিনি হালও ধরেন শক্ত হাতে। পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনন বুননের মাধ্যমে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি।
পিনন হচ্ছে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক। উৎসব-পার্বণে তারা এটি পরিধান করেন। সম্প্রতি সাক্রাছড়ি এলাকায় গিয়ে কথা হয় বিনতা তঞ্চঙ্গ্যার সঙ্গে। বাড়ির আঙিনায় পিনন তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
বিনতা তঞ্চঙ্গ্যা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে এ কাজের অভিজ্ঞতা তার। তবে পূর্বে শখের বশে করলেও স্বামী মারা যাওয়ার পর পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। চাহিদা ও বেচাবিক্রি ভালো হওয়ায় অনেকটা ভালোবেসেই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
পিনন তৈরির বিষয়ে তিনি জানান, পিনন তৈরির মূল বস্তু যেটাকে পাহাড়ি ভাষায় খাং বলা হয়ে থাকে। খাং বাজার থেকে ক্রয় করে আনেন। এরপর ভাতের মাড় দিয়ে শক্ত করে শুকাতে দিতে হয়। সেই খাং থেকে সুতার গোলা তৈরি করা হয়। সুতা বাইং এর মধ্যে সুদুক বাইশ ও বগলা দিয়ে বিশেষ একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পিনন তৈরি করা হয়।
বিনতা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘পিনন বুনন করাটা অনেকে সহজ বিষয় মনে করেন। কিন্তু এটি অত্যন্ত পরিশ্রমের কাজ। অনেকটা ধৈর্য ও সময় নিয়েই করতে হয়। তা ছাড়া পাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, যেটিকে থামি ড্রেস বলা হয়। সেটি তৈরি করতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। এ ছাড়া চাদর বানাতে প্রায় তিনি দিন লাগে।’
তবে এসব কাপড়ের ভালো চাহিদা ও দাম রয়েছে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে একটি থামি ড্রেস তারা তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করে থাকেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্ডার পাওয়ার পর তিনি তৈরি করে দেন। পাহাড়িদের পাশাপাশি অনেক বাঙালি মেয়েও এই পোশাক সংগ্রহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বিনতা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘এ কাজে সময়ের পাশাপাশি পুঁজিও দরকার। সরকারি বা বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে আরও বেশি এগিয়ে যেতে পারতাম।’
উপজেলা হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি থোয়াই অং মারমার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বিনতা তঞ্চঙ্গ্যা পিনন বুননের মাধ্যমে তাদের সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। ঐতিহ্যবাহী এ পোশাক নারীরা সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিধান করে থাকেন। তবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যদি এগিয়ে আসে, তবে এ প্রতিভাগুলো আরও বিকশিত হবে। যারা এ কাজে যুক্ত, তারাও উপকৃত হবেন।
ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিরঞ্জিত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘বিনতা তঞ্চঙ্গ্যা দীর্ঘ বছর ধরে পিনন বুনন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি অনেক শ্রম ও সময় দিয়ে এ কাজ করে থাকেন। বর্তমানে সরকার উদ্যোক্তাদের উৎসাহ-সহযোগিতা দিতে আগ্রহী। ঠিক তেমনি আমরাও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রান্তিক পর্যায়ের এ হস্তশিল্প কারিগরদের সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।’