এস এম রানা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৩ ১৪:২৬ পিএম
ফাইল ফটো
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বেশকিছু উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর বাড়তি চাহিদার কারণে এই ঘাটতি আরও তীব্র হচ্ছে। এতে করে চাপ বাড়ছে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর।
উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে মিঠা পানির উৎস নষ্ট হওয়ায় সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অনেক জায়গায় সুপেয় পানির জন্য রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে।
অনেক উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির জন্য নারীদের এক থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বে যেতে হয়। শিল্পকারখানাগুলো ভূগর্ভ থেকে অতিরিক্ত পানি টেনে নেওয়ার ভুক্তভোগী সীতাকুণ্ডের মতো শিল্প এলাকার নারীরা। অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় তাদের।
সীতাকুণ্ডের সংকট দ্বিমুখী। একদিকে উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় লবণাক্ত এলাকা। অন্যদিকে অপরিকল্পিত ও অধিক শিল্পকারখানা স্থাপনের ফলে বেড়েছে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের পরিমাণ। এতে করে সুপেয় পানির সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ছড়ার পানির ওপর এখন নির্ভর করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাদেরই একজন কুমিরা ইউনিয়নের রহিমা বেগম।
তিনি বলেন, ‘আগে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করতাম। এখন টিউবওয়েলেও পানি পাচ্ছি না। পরে ছড়ার পানি ব্যবহার শুরু করি। এখন শুষ্ক মৌসুমে ছড়ার পানিও পাচ্ছি না।’ এমন অসহায়ত্ব শুধু রহিমা বেগমের একার নয়। এই উপজেলার হাজারো গৃহবধূর নিত্য দুর্ভোগের নাম ‘পানিযুদ্ধ’।
সীতাকুণ্ডে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরে পানির স্তর ১০ ফুট নিচে নেমেছে। তবে গ্রীষ্মকালে সারা দেশেই কিছুটা নিচে নামে। বলা যায়, প্রতিবছর গড়ে এক ফুট করে নিচে নামছে পানির স্তর।’
উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সংকট মেটাতে সরকার একটি প্রকল্প নিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পভুক্ত উপজেলার প্রতিটি পরিবারকে প্রায় তিন হাজার লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানির ট্যাংক সরবরাহ করা হবে পরিবারগুলো সেই ট্যাংকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুযোগ পাবে।
সরকারের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং’ বা উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ। সরকারি অর্থায়নে ৪৪টি উপকূলীয় উপজেলার ২২২টি ইউনিয়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
২০২২ সালের জুলাইয়ে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই লাখ পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। প্রতিটি পরিবারকে তিন হাজার লিটার পানি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ফুড গ্রিন ওয়াটার ট্যাংক সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। এসব এলাকায় আগে নলকূপ থাকলেও বিভিন্ন সময় ঝড় জলোচ্ছ্বাসে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। অগত্যা মানুষকে পানির জন্য পুকুর বা অন্য জলাশয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব জলাশয়ের পানিও লবণাক্ত হয়ে পড়ছে।’