খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ১২:১০ পিএম
আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ১২:১০ পিএম
অযত্ন আর অবহেলায় ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে খানসামার জয়শঙ্কর রায় জমিদার বাড়ি। প্রবা ফটো
কবে এপার বাংলা ছেড়ে ওপার বাংলায় পাড়ি জমিয়েছেন জমিদার জয়শঙ্কর রায় চৌধুরী, তা সবার অজানা। তবু কালের চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার জমিদার বাড়িটি।
দিনাজপুর জেলার পুরোনো স্থাপনার মধ্যে অন্যতম খানসামা উপজেলার এই জমিদার বাড়ি। দূরদূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী ছুটে আসেন বাড়িটি দেখার জন্য। কিন্তু অযত্ন আর অবহেলায় বাড়িটি এখন ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, জমিদার বাড়িটি বর্তমানে গরু, ছাগল এবং আবর্জনা ফেলার একটি উপযুক্ত স্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন এলাকাবাসী।
বাড়ির দুটি দালানের মধ্যে একটি ভেঙে গেছে, অক্ষত অপর দালানটিও নষ্টের পথে। জমিদার বাড়ির চারপাশে সরকারিভাবে গড়ে উঠেছে আদর্শগ্রাম। জমিদারির সাক্ষী হিসেবে রয়েছে ৪টি পুকুর। সেগুলো আদর্শগ্রামের লোকরাই ব্যবহার করে থাকে। জমি, পুকুর ব্যবহার করলেও জমিদার বাড়িটির দিকে কারো নজর নেই।
এলাকাবাসী জানান, জমিদার হিসেবে জয়শঙ্কর ছিলেন অত্যাচারী প্রকৃতির মানুষ। সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন করায় দিনাজপুরের রাজা দেবোত্তর জয়শঙ্কর জমিদারকে পরাজিত করে বিতাড়িত করেন।
ঐতিহাসিক এই জমিদার বাড়িটি একাধিক নামে পরিচিত। খানসামা জমিদার বাড়ি, খানসামার জয়শঙ্করের জমিদার বাড়ি ও জয়গঞ্জ জমিদার বাড়ি নামেও পরিচিত। তবে এই জমিদার বাড়ি কবে নাগাদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কে এই জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেছে তা আজও সবার অজানা।
তবে কথিত আছে, ভারতবর্ষে যখন জমিদারি প্রথা চালু ছিল, সে সময়ে এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা জমিদারের নামের ইতিহাস না থাকলেও রয়ে গেছে শেষ জমিদার জয়শঙ্করের নাম। তার নামানুসারে এই গ্রামের নামকরণ করা হয় জয়গঞ্জ।
দেশ ভাগের আগে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর শেষ জমিদার জয়শঙ্কর প্রায় ১০০ একর জমি এবং জমিদার বাড়িটি রেখে ভারতের শিলিগুড়িতে চলে যান।
একসময় জমিদার বাড়িটিতে একতলা একটি প্রাসাদ ছিল, ছিল থাকার ঘর, বসার ঘর, মালামাল রাখার ঘর ও মন্দির। যার অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির কিছু অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং কিছু অংশ সরকারি খাসজমিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জমিদার আমলের সেই বটগাছটি।
জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বারে লোহার গেটটিও এখন ব্যবহার হচ্ছে খানসামা থানার প্রবেশদ্বার হিসেবে। জমিদার বাড়ির অনেক কিছুই নষ্টের পাশাপাশি চুরি হয়ে গেছে। অযত্নে থাকা বাড়িটি বাঁচাতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
ইতিহাসের এ প্রাচীন সাক্ষী আগামী প্রজম্মের কাছে তুলে ধরতে ও বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে তারা সরকারকে আহ্বান জানান।