পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৪৩ পিএম
আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:১০ পিএম
ঈদের আগে ক্ষতিপূরণের দেড় কোটি পেয়ে খুশি কৃষকেরা। প্রবা ফটো
ঈদকে সামনে রেখে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় চাষাবাদকারী কৃষকদের মাঝে ক্ষতিপূরণের দেড় কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা রূপপুরের কৃষকের মাঝে এসব টাকার চেক বিতরণ করেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরুল কায়েস।
ইউএনও পি এম ইমরুল কায়েসের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) টি এম রাহসিন কবির, পাকশী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ জামানসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সদস্যরা।
ইউএনও জানান, উচ্চ আদালতে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ও পাবনা জেলা প্রশাসকের আদেশে ক্ষতিপূরণের টাকা কৃষকদের দেওয়া হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কারণে এখানকার চাষাবাদকারী কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭৫ জনের একটি তালিকা করে। সেই তালিকা অনুযায়ী আজ পর্যন্ত ঈশ্বরদীর ৫৫৯ জনকে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করা হয়।
ইউএনও বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের এসব টাকা কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। এখনো ২১৬ কৃষকের তালিকায় নাম রয়েছে। কিন্তু মামলার কারণে এখনই টাকা প্রদান করা যাচ্ছে না।’
জানা গেছে, ২০১৭ সালে চরাঞ্চলের ৯৯০ একর খাস জমি রূপপুর প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে এসব খাস জমিতে চাষাবাদকারী কৃষকের ফসলের ক্ষতিপূরণ প্রদানের লক্ষ্যে ৭৭৫ জনের তালিকা প্রস্তুত হয়। পরমাণু শক্তি কমিশন ২০১৭ সালে ক্ষতিপূরণের জন্য ২৭ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ টাকা বরাদ্দ করেন। তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্তি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়লে এবং নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
স্বামীর মৃত্যু হওয়ায় ক্ষতিপূরণের চেক গ্রহণ করেন হাজেরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর খুবই কষ্টে দিন যাচ্ছে। বিনা শর্তে ক্ষতিপূরণের ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা পেয়ে আমি খুশি।’
প্রকল্পের জমির কলা ও কালাই চাষী আলতাব হোসেন পেয়েছেন তিন লাখ ৮৩ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৫ বছর নিরাশায় ভুগছিলাম। ঈদের আগে আজ চেক পেয়ে খুব খুশি লাগছে।’