নাঈম ইসলাম
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৫৮ এএম
শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্রে কাঠের অক্ষরের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা
শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্ধীগাঁও গ্রামের শফিকুল ইসলাম। গারো পাহাড়ের গজনী অবকাশ কেন্দ্রে কাঠের অক্ষরের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। পর্যটকদের নজর কাড়ছে বাহারি নকশার কাঠের অক্ষর। নিজের ও প্রিয়জনের নাম লিখে নিতে ভিড় এসব দোকানে। চাহিদা অনুযায়ী নাম কাঠের অক্ষর দিয়ে সাজিয়ে দিচ্ছেন শফিকুল ও তার কারিগররা। গজনী অবকাশ ও পার্শ্ববর্তী মধুটিলা ইকোপার্কে শফিকুলের মতো আরও ১২টি দোকান রয়েছে। কাঠের অক্ষরের দোকানগুলোতে আয়ের পথ হয়েছে অন্তত ৪০ জন মানুষের। অক্ষর তৈরি ও বিক্রি করে চলছে তাদের সংসার। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়বে, আশা তাদের।
গজনী অবকাশ কেন্দ্র ও মধুটিলা ইকোপার্কে গিয়ে দেখা যায়, অন্য দোকানের চেয়ে কাঠের অক্ষরের দোকানে ভিড় বেশি। কেউ দাঁড়িয়ে দেখছে, আবার কেউ নিজের ও প্রিয়জনের নাম কাঠের অক্ষরে লেখাচ্ছে। প্রতি অক্ষরের বিনিময়ে দিতে হয় ১০ টাকা। আর অক্ষর দিয়ে নাম বানাতে ও আঠা দিয়ে সাজাতে ব্যস্ত কারিগররা।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হতে গজনীতে বেড়াতে আসা ডা. বাহাদুর শাহ মজুমদার বলেন, ‘কাঠের অক্ষর দিয়ে নাম লেখা সব জায়গায় পাওয়া যায় না। আমার মা এগুলো খুব পছন্দ করেন। পরিবারের সবার জন্য ৬টি নাম লিখে নিলাম ২৫০ টাকা দিয়ে। এখানকার কারিগররা অত্যন্ত নিপুণ হাতে নামগুলো বানিয়ে দিল।’ শেরপুর পৌর শহরের চাপাতলি থেকে আসা মারিয়া সুলতানা মীম বলেন, ‘কাঠের অক্ষরে নাম বা কারুকাজ শহরে পাওয়া যায় না। গজনীতে চোখে পড়ায় আমার ও বন্ধুর নাম কাঠের অক্ষরে সাজিয়ে নিলাম। নাম দুটি আবার কাঠের সুন্দর একটা ফ্রেমে আটকিয়ে নিয়েছি। কাঠ দিয়ে বানানো নামটা দেখলে প্রাকৃতিক একটা ছন্দ পাওয়া যায়।’
জামালপুর থেকে মধুটিলা ইকোপার্কে এসেছেন আব্দুল মোমেন মাস্টার। তিনি বলেন, ‘আধুনিকতার দাপটে কাঠ, বাঁশ ও বেতের জিনিস হারিয়ে গেছে। পাহাড়ে এলাম, স্মৃতি হিসেবে পার্কের নামটি লিখে নিয়ে গেলাম। গত বছরও গজনী হতে আমি স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নাম লিখে নিয়ে গিয়েছি। এই কাঠের অক্ষরের নাম শোপিস হিসেবে সাজিয়ে রাখলে সুন্দর লাগে।’
ব্যবসায়ী শফিকুল বলেন, ‘আমরা প্রতি অক্ষর ১০ টাকা করে বিক্রি করি। দোকানে আমার সঙ্গে আরও দুইজন কাজ করে। অবকাশে পর্যটক বেশি এলে বেশি বিক্রি হয়। কারণ কাঠের এসব অক্ষর দর্শনার্থীদের মন কাড়ে, তাই যে কেউ সহজেই এইগুলা পছন্দ করে। আমরা দিনে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বেচাকেনা করতে পারি। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি বিক্রি করতে পারতাম।’
আরেক ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, কাঠের অক্ষরের নাম সব জায়গায় পাওয়া যায় না। প্রায় আট-দশ বছর যাবৎ গজনী ও মধুটিলায় আমরা ব্যবসা করে আসছি। এসব বেইচ্চে (বিক্রি) যা আয় হয় তা দিয়েই কারিগর ও আমাদের সংসার চলে। যে রকম নাম পছন্দ করে, সে রকম লিখে দেওয়ার ব্যবস্থা করি, ১০ টাকা করে প্রতি অক্ষরের দাম নিয়ে থাকি। প্রথমে কাঠের মাধ্যমে আঠা দিয়ে জোড়া লাগিয়ে অক্ষর বসানো হয়। তারপর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে সেটাতে আঠার লাগিয়ে ঝরি দিতে হয়। এতে সৌন্দর্য বেড়ে যায় আর দর্শনার্থীরাও খুশি হয়।
গজনী অবকাশ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, কাঠের অক্ষর বিক্রি করেন এখানে অনেকে। এসব দোকানের মালিক, কারিগররা অক্ষর বিক্রির আয় দিয়েই সংসার চালান। যদি তারা কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা পেত, তা হলে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়তো বলে মনে করি।