চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৩ ১৬:৫১ পিএম
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৩ ১৭:২৬ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনাবৃষ্টি ও তাপদাহের কারণে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। প্রবা ফটো
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনাবৃষ্টি ও তাপদাহের কারণে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। মৌসুমের শুরুতে মুকুলে চোখ জুড়ালেও যথাসময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় গাছে আমের গুটি কিছুটা কম এসেছে। আর এখন তাপদাহের কারণে বোঁটা শুকিয়ে ঝড়ছে আমের গুটি। আবহাওয়ার এমন বৈচিত্র্য দেখে হতাশ চাষি ও বাগানমালিকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩৭ হাজার ৫৮৮ হেক্টর জমিতে ২৮ লাখ ২৬ হাজার ৬৪৮টি আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর, শিবগঞ্জ উপজেলায় ২০ হাজার ২৬০ হেক্টর, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৪ হাজার ২৩০ হেক্টর, নাচোল উপজেলায় ৪ হাজার ২৭১ হেক্টর এবং ভোলাহাট উপজেলায় ৩ হাজার ৬৬২ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে।
জেলায় অনান্য আমের তুলনায় সবচেয়ে বেশি আশ্বিনা আমের আবাদ হচ্ছে। এ বছর জেলাজুড়ে মোট ৯ হাজার ৩২৭ হেক্টর জমিতে আশ্বিনা আমের চাষ করছেন কৃষকরা। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য উপজেলার মধ্যে শিবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি জাতের আম চাষ হচ্ছে। এ উপজেলায় প্রায় ১৫ লাখ ১৫ হাজার আমগাছে বিভিন্ন জাতের আম চাষ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। জেলায় ফজলি, লক্ষ্মণভোগ, গোপালভোগ, ক্ষিরশাপাত, ল্যাংড়া, আম্রপালিসহ অন্তত ২০ -এর অধিক জাতের আম চাষাবাদ হয়ে থাকে এ অঞ্চলে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের গাছগুলোর নিচে অসংখ্য আমের গুটি ঝরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া গাছের ডগায় আমের গুটি শুকিয়ে যাচ্ছে। অনাবৃষ্টি আর তাপদাহের কারণে আমের বোঁটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। ইতোমধ্যে আমের গুটি ঝরা রোধ করতে চাষিরা সেচ দিতে শুরু করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, ’খরার কারণে আমের গুটি অনেক পরিমাণে ঝরে যাচ্ছে। যার কারণে গাছ থেকে আম কমে যাচ্ছে। গাছগুলোতে আমের মুকুল অনেক এসেছিল, কিন্তু প্রয়োজনমতো বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অনেক মুকুল রোদে পুড়ে ঝলসে গেছে। এমন আবহাওয়া চলতে থাকলে আমের বাগানে লোকসানের শঙ্কায় থাকতে হবে।’
সদর উপজেলার আমচাষি মোযাফফর হোসেন বলেন, ’বাগানের আমের গাছগুলোতে ভালোই মুকুল এসেছিল, কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অনেক মুকুল রোদের কারণে নষ্ট হয়েছে। তারপরও যেগুলো মুকুল ফুটে আমের গুটি বের হয়েছিল, সেগুলো থেকেও অনেক আম ঝরে যাচ্ছে। এসব কারণে অধিকাংশ গাছ আমশূন্য হয়ে পড়ছে। বর্তমানে তাপদাহের কারণে আমগাছে সেচ ও কীটনাশকের মিশ্রন ম্প্রে করেও গুটি টেকানো যাচ্ছে না।’
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কানিজ তাসনুভা বলেন, ‘আমাদের উপসহকারীরা আম রক্ষার্থে বাগানমালিক ও চাষিদের আমের গাছে বেশি করে পানি দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং ছত্রাকনাশক ও বোরন স্প্রে করতে বলা হচ্ছে। গত বছরে তুলনায় আমের গুটিও ভালো রয়েছে। কিন্তু তাপদাহ ও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। তবে কিছু কিছু জাতের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আম ঝরানোর জন্য এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ করে থাকে, ফলে গুটি ঝড়ে যায়। প্রাকৃতিক কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।’
এমন বৈচিত্র্য আবহাওয়ার মাঝে আমে গুটি ঝরা রোধ করতে আমচাষি ও বাগানমালিকদের বেশি বেশি সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ’গাছে যে পরিমাণে মুকুল ফুটে আম হয়, সেসব অনেক গাছেরই খাদ্য ঘাটতি থাকে। যথাযথ পরিমাণে গাছের খাদ্য না থাকার কারণে প্রাকৃতিক নিয়মে অনেক আম ঝরে যায়। বর্তমানে জেলায় মৃদু তাপদাহের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি কম হয়েছে। ফলে মাটি শুষ্ক হয়ে আছে, অনেক জায়গায় পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এই কারণেও আম ঝরে পড়ছে। এই মুহূর্তে আমচাষি ও বাগানমালিকদের উচিত সেচ প্রয়োগ করা।’