চয়ন চৌধুরী, সিলেট
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ১২:০৪ পিএম
মেয়র আরিফুল হক আরিফ। প্রবা ফটো
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক আরিফের লন্ডন সফর নিয়ে রহস্যের কুয়াশা কাটছেই না। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনটি রিং লাগানোর ১৬ দিনের মাথায় তার যুক্তরাজ্য যাত্রা নিয়ে এখনও কানাঘুষা চলছে।
বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা হচ্ছে, সিসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগে হঠাৎ করে ‘ব্যক্তিগত’ সফরে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার নেপথ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ‘সিগন্যাল’ আদায়।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য যুবদলের ইফতার মাহফিলে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আরিফ ‘নেতার কাছ থেকে সিগন্যাল’ পাওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। তবে সিগন্যাল ‘লাল না সবুজ’, তা সময়ই বলে দেবে বলে আরিফের মন্তব্যের পর জল্পনার পালে আরও হাওয়া লেগেছে।
‘বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়’- বিএনপির এমন কঠোর নীতি বলছে সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। তারপরও নগরীর সব আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছেন মেয়র আরিফ। স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় শিবিরে জোর গুঞ্জন চলছে- আরিফ নির্বাচনও করতে চান, আবার দলেও থাকতে চান। সেক্ষেত্রে দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হয়তো নির্বাচন করবেন।
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করলে কুমিল্লার মনিরুল হক সাক্কু এবং নারায়ণগঞ্জের তৈমূর আলম খন্দকারের পরিণতি যাতে ভোগ করতে না হয়, এ কারণে তারেক রহমানের সম্মতি আদায় করতে লন্ডন গিয়েছেন তিনি। দলের বাইরে গিয়ে সিটি নির্বাচন করায় মনিরুল হক সাক্কু ও তৈমূর আলম খন্দকার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুক্তরাজ্য বিএনপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেই অনুষ্ঠানের লাইভ সম্প্রচারে মেয়র আরিফকে বলতে শোনা যায়, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে আমি দুইবার বিএনপির মনোনীত মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু এবার যেহেতু আমাদের দল এই ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না, সেক্ষেত্রে আমরা অটল।’
‘বিএনপি পরিবারের কোনো সদস্য এই পিচ্ছিল পথে (দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা) পা দেবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি এমন মন্তব্যে সিসিক নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র পদে আরিফের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা নেই মনে হলেও একই বক্তব্যের শেষদিকে রহস্য রেখে দেন তিনি।
অসুস্থ শরীর নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন- ‘হ্যাঁ, আমার সঙ্গে আমার নেতার মিটিং হয়েছে। তিনি আমাকে একটা সিগন্যাল দিয়েছেন। সেটা লাল না সবুজ- সময়ই বলে দেবে।’
এদিকে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি মেয়র আরিফের দেশে ফেরার দিনক্ষণ নিয়েও নানা কথা বাতাসে ভাসছে। একপক্ষ আজ বৃহস্পতিবার তিনি ফিরছেন দাবি করলেও আরেকপক্ষ বলছে, আগামী শনিবার দেশে আসবেন আরিফ।
এ প্রসঙ্গে সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ জানান, যুক্তরাজ্যে মেয়রের ১৫ দিন থাকার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন রয়েছে। এটা বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে। তবে মেয়াদ না বাড়ালে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে তিনি দেশে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মেয়রের ঘনিষ্ঠ মহানগর বিএনপির এক নেতা বলেন, মেয়র আরিফ শনিবার আসবেন। নির্বাচনে আরিফের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করতে চান বলেই তো তিনি লন্ডনে গিয়েছেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির বিগত কমিটির এক সহ-সভাপতি যুক্তরাজ্য যুবদলের ইফতার মাহফিলে মেয়র আরিফের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘উনার বক্তব্যে স্পষ্ট কিছু নেই। এতে মনে হচ্ছে, দেশে ফিরে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘মেয়র আরিফ বক্তব্যে বলেছেন, বিএনপি পরিবারের কেউ বর্তমান সরকারের আমলে নির্বাচনে যাবে না। এখন তিনি পদত্যাগ করে নির্বাচন করলে তো বিএনপি পরিবারের কেউ নির্বাচনে যাওয়া হলো না।’
অন্যদিকে আরিফের ঘনিষ্ঠ মহানগর বিএনপির আরেক সাবেক সহ-সভাপতি বলেছেন, ‘তারেক রহমান দলে আরিফকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিচ্ছেন। এটাই সিগন্যাল।’ এ নিয়ে আরিফের সঙ্গে কথা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে না-সূচক উত্তর দেন তিনি।