নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৩৮ পিএম
আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ২১:০৪ পিএম
নওগাঁ সীমান্তে বিবাদমান জমি মাপজোখ করছেন বাংলাদেশ ও ভারতের সার্ভেয়াররা।
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর নিষ্পত্তি হলো ভারতের সঙ্গে জমি নিয়ে বাংলাদেশের বিবাদ। আর সেই সঙ্গে ভারতের দখলে থাকা নওগাঁর সীমান্তের ৭৫ শতাংশ জমি পাচ্ছে বাংলাদেশ। নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদিগুন সীমান্তের ৭৫ শতাংশ জমির মালিকানা বুধবার (১২ এপ্রিল) বুঝে পাচ্ছে বাংলাদেশ।
দুপুরে ধামইরহাট সীমান্তে আগ্রাদিগুন ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ফুটবল মাঠে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) -এর মধ্যে কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। পরে ওই জমির মালিকানা বাংলাদেশের কাছে ছেড়ে দেয় ভারত। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে ওই জমিতে কেউ চাষাবাদ করতে পারবে না।
এ সময় বিজিবির পক্ষে ৬ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নওগাঁর পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের (১৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হামিদ উদ্দিন। অপরদিকে ১২ সদস্যবিশিষ্ট বিএসএফের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভারতের পতিরাম আরাদপুর ১৬৪ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট শ্রী সঞ্জয় কুমার মিশ্রা।
১৪ বিজিবির পক্ষে জানানো হয়, নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদিগুন সীমান্তে ২৫৭/২০ আর পিলারের কাছে জমি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে বিএসএফের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। আর জমিটি বাংলাদেশের ১০০ গজ অভ্যন্তরে হওয়ায় ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সেখানে বাংলাদেশের কৃষকরা চাষাবাদ করে আসছিল।
১৯৭৭ সালের পর ওই জমি ভারতের বিএসএফ নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর থেকে সেখানে বাংলাদেশের কৃষকরা আর চাষাবাদ করতে পারছিল না। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে অসংখ্যবার পত্র চালাচালি হয়েছে। কিন্তু বিরোধ নিষ্পত্তি না করে শুধু কালক্ষেপণ করা হচ্ছিল। একপর্যায় ১৪ বিজিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য জমি জরিপসহ পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানায় বিজিবি।
পতাকা বৈঠকের আহ্বানে সাড়া দেয় বিএসএফ। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) এবং প্রতিপক্ষ ১৬৪ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ আরাদপুরের মধ্যে সীমান্ত পিলার ২৫৮/৬-এস-এর নিকটবর্তী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আগ্রাদিগুন ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ফুটবল মাঠে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর উভয় দেশের সার্ভেয়ার ওই জমি পরিমাপ করেন।
মাপজোখ শেষে ৭৫ শতাংশ জমিসহ অতিরিক্ত কিছু জমি পায় বাংলাদেশ। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই বর্ণিত জমিটি ভোগদখল করতে পারবে না, এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পতাকা বৈঠকটি শেষ হয়।
এ সময় ভারতের ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশের ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হামিদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ৪৫ বছর থেকে ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অবশেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে মাপজোখ শেষে উভয় দেশের ল্যান্ড সার্ভেয়ার কর্তৃক জরিপকাজ পরিচালনা করা হয়। সরেজমিনে জরিপ শেষে দেখা যায়, বিরোধপূর্ণ জমিটি বাংলাদেশের ভূখণ্ড।’
তিনি বলেন, ’জরিপের ফলাফল দ্রুততার সঙ্গে পত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অবহিত করবেন বলে বিএসএফের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় অধিনায়ক একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।’