খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫১ পিএম
আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫৭ পিএম
সকালে খাগড়াছড়ি দক্ষিণ খবংপড়িয়া চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব শুরু। প্রবা ফটো
নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব নতুন বছর বরণ বা বিজু শুরু হয়েছে।
বুধবার (১২ এপ্রিল) সকালে খাগড়াছড়ি দক্ষিণ খবংপড়িয়া চেঙ্গী নদীতে ফুল ভাসিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের প্রথম দিন পালন করা হয়। চাকমারা বিশ্বাস করেন, এই ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছরে বয়ে আনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কালো লাল রঙে পিনন হাদি পরে নারীরা আর ছেলেরা ধুতি- ফতুয়া বা পাঞ্জাবী পরে ফুল বিজু উৎসবে মেতে ওঠে তারা।
চাকমারা তিনদিন বিজু উৎসব পালন করেন। প্রথম দিন ‘ফুল বিজু, দ্বিতীয় দিন মূল বিজু, তৃতীয় দিন গইজ্জা পইজ্জা বিজু। অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন ফুল বিজু, চৈত্র সংক্রান্তির দিন মূল বিজু ও পহেলা বৈশাখের দিন গইজ্জা পইজ্জা।
চেঙ্গী নদীতে দেখা যায়, অনেকে পরিবার নিয়ে এসেছে ফুল ভাসাতে। আবার অনেকে স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলতে ব্যস্ত। কেউবা ছেলে মেয়েদের সঙ্গে পানি নিয়ে খেলায় মেতেছেন। আবার কেউ কেউ নৌকায় উঠে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ যেন এক মিলন মেলা। এসব দৃশ্য যে কারোর মনে আনন্দ বয়ে আনবে।
ফুল ভাসাতে আসা এক চাকমা মেয়ে জানান, বিগত দু-বছর করোনা মহামারির কারণে ফুল বিজু তেমন মজা করতে পারিনি। এ বছর হাজার লোকের সমাগমে ভালো লাগার অনুভূতি কাজ করছে।
সংস্কৃতি কর্মী তাপস ত্রিপুরা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ফুল বিজুর মূল থিম হলো, আমরা সারা বছর পানি ব্যবহার করি সেই কারণে এই দিনে ফুল দিয়ে গঙ্গা মাকে পূজা করি এবং গঙ্গা মায়ের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি।’
এ ছাড়া মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালি সম্প্রদায়ের লোকও ফুল বিজুতে সমাবেত হন।
একজন মারমা মেয়ে জানান, চাকমাদের ফুল বিজুতে প্রথম আসা। আগে জানতাম না এসব বিষয়ে। চাকমা পোশাক পরে ফুল বিজুতে অংশগ্রহণ করে অনেক আনন্দ লাগছে।
চাকমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানানোর জন্য আজকের এইদিনের নদীতে ফুল ভাসান এবং গঙ্গা মায়ের প্রণাম করে থাকেন বলে জানান উন্নয়নকর্মী রিপন চাকমা
খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আক্তার বলেন, 'খাগড়াছড়ি এ বছর প্রথম চাকমাদের ফুল বিজুতে অংশগ্রহণ করেছি। আগে রাঙ্গামাটি থাকার সময় শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ফুল ভাসানো হতো। কিন্তু খাগড়াছড়িতে ব্যতিক্রমী চিত্র দেখে ভোর থেকে দু-ঘণ্টা ফুল ভাসানোর চিত্র দেখছি। এখানে অন্যরকম একটা অনুভূতি পেয়েছি।'
এদিকে খাগড়াছড়ি পুলিশ নারী কমিটি (পুনাক) সভানেত্রী রেহেনা ফেরদৌসি বলেন, 'এই অনুষ্ঠান আমরা বইয়ে পড়েছি, টিভিতে দেখেছি, তবে এ প্রথম পরিবার নিয়ে এখানে থাকতে পেরে আনন্দিত এবং সকল সম্প্রদায়ের প্রতি বৈসাবির শুভেচ্ছা জানাই।'
ঢাকা থেকে চাকমাদের ফুল বিজু দেখতে আসা আবৃত্তি বলেন, 'আমরা এ ধরনের প্রোগ্রাম কখনও দেখিনি, কীভাবে পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে হয়। সত্যিই দিনটি অসাধারণ ছিল।'