বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ১০:০৭ এএম
আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ১৫:৪১ পিএম
সাঙ্গু নদে ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ি তরুণীরা চাকমাদের তিন দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসবের সূচনা করেন। প্রবা ফটো
সাঙ্গু নদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শুরু হয়েছে চাকমাদের তিন দিনব্যাপী বিজু, ত্রিপুরাদের বৈসুক ও তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু উৎসব। পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এ উৎসব পালন করা হয়।
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ নতুন বছরকে তাদের ভাষায় বিভিন্ন নামে ডেকে থাকেন। ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই, ম্রোদের চানক্রান, খিয়াংদের সাংগ্রান, খুমিদের সাংক্রাই, চাকমাদের বিজু ও তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু। তাই অনেকে এ উৎসবকে সম্মিলিতভাবে ‘বৈসাবি’ বলে থাকেন।

বাংলা বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে বছরের শেষ দুই দিন ও বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন চাকমারা ফুল বিজু, মূল বিজু ও গজ্যাপজ্যা এ তিন দিন বিজু পালন করে। তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের প্রথম দিনে বাড়িঘর পরিষ্কারের পর নদীতে স্নান করে পরিশুদ্ধ হয় পাহাড়িরা। এদিন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানোর রেওয়াজ আছে। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে পাজনসহ হরেকরকমের খাবার দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে আপ্যায়ন করা হবে অতিথিদের। উৎসব শেষ হবে ‘গজ্যাপজ্যা’ বা বিশ্রামের মধ্য দিয়ে।
সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শৈটিং মারমা জানান, মাহাঃ সাংগ্রাই পোয়ে ১৩৮৫ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৩ এপ্রিল সাংগ্রাই র্যালি, রিলং পোয়ে ও পাড়ায় পাড়ায় পিঠা তৈরি।

জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, সাংগ্রাই,বিজু, বিষু, বৈসু উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলাজুড়ে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বান্দরবানে সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উৎসবস্থলে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে দুই স্তরবিশিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে।