চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ০০:০৬ এএম
আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩ ১১:০২ এএম
মঙ্গলবার অনিবন্ধিত ও অবৈধ এনজিও সজাগ দারিদ্র্য উন্নয়ন সংস্থার দুই মালিকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সংবাদ সম্মেলন। প্রবা ফটো
১ লাখ টাকা জামানত রাখলে মাসে লাভ দেওয়া হবে ১৩৫০ টাকা। যখন ইচ্ছা তখনই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। সাত বছর মেয়াদে টাকা রাখলে পাওয়া যাবে জামানতের দ্বিগুণ। এমন লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কয়েকশ গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন অনিবন্ধিত ও অবৈধ এনজিও ‘সজাগ দারিদ্র্য উন্নয়ন সংস্থা’র দুই মালিক ইরানী খাতুন ও মাসুদ রানা।
জামানতের টাকা ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও এনজিওর কর্মীরা। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে জেলা শহরের শান্তিমোড়ের এক গ্রাহকের বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা শহরের সোনারমোড় এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে বেবী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে এখনও এনজিওতে টাকা রাখার বিষয়টি জানে না। আমি তাকে বলতেও পারব না। সজাগ দারিদ্র্য উন্নয়ন সংস্থার মালিক ইরানী খাতুন ও মাসুদ রানা দুজনই পালিয়েছে। কোথায় যাব, কার কাছে যাব কিছুই বুঝতে পারছি না। চোখের পানি ফেলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। পরিবারের লোকজনকে বলেছি, আমি মারা যাওয়ার পর ছেলেকে এনজিওতে টাকা রাখার কথা বলিও। তার আগে জানলে ছেলে হার্ট অ্যাটাকে মারা যাবে।’
চুনারীপাড়া মহল্লার আসলাম আলীর স্ত্রী পলি বেগম বলেন, ‘স্বামীর অনেক কষ্টে জমানো টাকাগুলো এনজিওতে জমা নেওয়ার জন্য বাসায় অনেকবার এসেছিল সংস্থার মালিক ইরানী খাতুন ও মাসুদ রানা। টাকা নেওয়ার সময় বলেছিল, যখন আপনাদের প্রয়োজন হবে টাকা পেয়ে যাবেন। গত আট-নয় মাস থেকে টাকা চাইলেও বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরাচ্ছে। তারা দুজনই পালিয়েছে। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।’
এনজিওর মাঠকর্মী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমাকে দিয়ে গ্রাহকদের টাকা আদায় করেছে। তারা পালিয়ে যাওয়ায় গ্রাহকরা আমাকে চাপ দিচ্ছে। আমার নিজেরও ৫০ হাজার টাকা জামানত ও ৮০ হাজার টাকা বেতন বাবদ পাওনা রয়েছে। অথচ তারা দুজন এসব টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় জমি ও বাড়ি কিনেছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমাদের জামানতের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করুন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী গ্রাহক লতা বেগম, আসলাম আলী, ইশরাত জাহান প্রমুখ।
এ বিষয়ে সজাগ দারিদ্র্য উন্নয়ন সংস্থার দুই মালিক ইরানী খাতুন ও মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি বাড়িতে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি।