× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বহু মৃত্যুর পরেও ফেরেনি হুঁশ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৪০ পিএম

 ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যার মোহনায় নোঙর করে রাখা বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যবাহী জাহাজ। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে যাত্রীবাহী লঞ্চ। প্রবা ফটো

ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যার মোহনায় নোঙর করে রাখা বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যবাহী জাহাজ। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে যাত্রীবাহী লঞ্চ। প্রবা ফটো

দুই দফা কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চ ডুবে ৪৪ জনের মৃত্যুতেও চেহারা বদলায়নি মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌপথের। বিআইডব্লিউটিএ, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের নিয়মিত তদারকি, নৌ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জোরদার নৌপথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এখনও ঝুঁকিমুক্ত হয়ে ওঠেনি এই নৌপথ। এসব কারণে লঞ্চযাত্রায় আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে।

লঞ্চমালিকরা বলছেন, অব্যাহত লোকসান দিয়ে এই পথে লঞ্চ চলাচল বেশিদিন সচল রাখা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া দুটি লঞ্চডুবির ঘটনার মামলারও কোনো অগ্রগতি নেই। এর মধ্যে একটি মামলা ঝুলে আছে নৌ আদালতে। অন্যটি আটকে আছে তদন্তে।

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটের অদূরে ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যার মোহনায় বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যবাহী জাহাজের এলোপাতাড়ি নোঙর, শীতলক্ষ্যাজুড়ে জাহাজের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে গতিহীন হয়ে পড়েছে এই নৌপথ।

২০২১ সালের ৪ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসা এম এল সাবিত আল হাসান লঞ্চটি তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছে এমভি এসকেএল-৩ কার্গো জাহাজ ধাক্কা দিলে অন্তত ৭০ যাত্রী নিয়ে সেটি ডুবে যায়। এতে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। দুর্ঘটনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পৃথক ৪টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অধিকাংশ প্রতিবেদনে জাহাজটির বেপরোয়া গতি ও মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌপথটি সংকীর্ণ হওয়ার কারণে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছিল বলে উঠে আসে। 

সাবিত আল হাসান লঞ্চডুবিতে মুন্সীগঞ্জ শহরের বাগমামুদালীপাড়া এলাকার সুনিতা সাহা ও তার দুই ছেলে বিকাশ সাহা-অনিক সাহা মারা যান। সম্প্রতি তার ভাই গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘লঞ্চডুবির ঘটনায় বোন ও ভাগনেদের হারিয়ে আমরা লঞ্চে চলাফেরা করা বন্ধ করে দিয়েছি। এটি স্পষ্টত একটি হত্যাকাণ্ড ছিল।’

ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ’ এনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ ইউনুস মুন্সী এসকেএল-৩ জাহাজের মাস্টার, সুকানি ও ইঞ্জিন ড্রাইভারসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত অভিযোগ থেকে ১১ জনকে অব্যাহতি দিয়ে এসকেএল-৩ কার্গো জাহাজের মাস্টার ওহিদুজ্জামান, সুকানি আনোয়ার মল্লিক ও ইঞ্জিন ড্রাইভার মজনু মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন। বর্তমানে মামলাটি কী অবস্থায় আছে তা বলতে পারেন না বাদী বাবু লাল। তিনি বলেন, ‘বাদী হলেও আমাকে আদালত এ বিষয়ে পরে আর ডাকেনি। মামলাটি বর্তমানে নৌ আদালতে রয়েছে।’

ওই ঘটনার ১১ মাস ১২ দিন পর ২০২২ সালের ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসার সময় শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় এমভি রূপসী-৯ নামের একটি জাহাজ পেছন থেকে ধাক্কা দিলে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে এম এল আফসার উদ্দিন লঞ্চটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায়ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা বাবু লাল বৈদ্য নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তাধীন। নৌপুলিশ নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মীনা মাহমুদা বলেন, ‘মামলার তদন্ত করছে নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানা পুলিশ। শিগগির মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।’ 

জানা গেছে, এম এল আফসার উদ্দিন ডুবির পরের দিনই মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ। এ সময় যাত্রীদের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে, এই পথে আধুনিক ও উন্নত বড় আকারের লঞ্চ চালু করতে। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুটি আধুনিক ও ঝুঁকিমুক্ত সি-ট্রাক চালু করা হয়। কিন্তু এক দিন পরই একটি সি-ট্রাক বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয়টির চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয় আট দিনের মাথায়। এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস এই নৌ রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকার পর লঞ্চ মালিকদের অনুরোধে পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ১৪টি বড় মাপের লঞ্চকে চলাচলের অনুমতি দেয় বিআইডব্লিউটিএ। যাত্রী না থাকায় তার মধ্যে ৪টি লঞ্চ কেটে কেজি দরে বিক্রি করে দেন মালিকরা। বাকি ১০টির মধ্যে ধুঁকে ধুঁকে চলাচল করছে ছয়টি। 

মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ পথে চলাচলকারী রিয়া অ্যান্ড রাকা লঞ্চের চালক মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘এই রুটে লঞ্চ চলাচলে প্রধান প্রতিবন্ধকতা কার্গো জাহাজের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও শীতলক্ষ্যার মোহনায় সিমেন্ট ফ্যাক্টরির পণ্যবাহী জাহাজের খেয়াল-খুশিমতো নোঙর। এরা এতটাই প্রভাবশালী যে বারবার নৌ দুর্ঘটনার পরও এদের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায় না। ফলে পরপর দুটা নৌ দুর্ঘটনার পর যাত্রীরা ভয়ে আর লঞ্চে চলাচল করেন না। প্রতিদিন লোকসান দিয়ে আমাদের লঞ্চ চালাতে হচ্ছে।’

লঞ্চযাত্রী ইকবাল আহমেদ নিশি বলেন, ‘এই লঞ্চগুলো বহু পুরোনো। দেশের অনেক আধুনিকায়ন হলেও এই লঞ্চগুলোর হয়নি। যেহেতু শীতলক্ষ্যা নদীটির প্রস্থ কম তাই এই পথের কার্গোসহ অন্যান্য যারা এলোপাতাড়ি নদীতে নৌযান রেখে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে শক্তভাবে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা মাঝেমধ্যেই শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনায় অভিযান চালাই। ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করি। আবার দুই-এক দিন পরই জাহাজগুলো নদীতে এলোপাতাড়ি রেখে দেওয়া হয়। এর কোনো স্থায়ী সমাধান আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি নৌপথটা যাতে নিরাপদ থাকে, একেবারে যাতে বন্ধ না হয়ে যায়। সেজন্য ৫৫ ফুটের নিচে যে লঞ্চগুলো রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে বাকিগুলো চালু রেখেছি। 

বাবু লাল বৈদ্য বলেন, নদীতে পণ্যবাহী জাহাজের নৈরাজ্য ঠেকানো আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। তারপরও নিয়মিত তদারকি করছি। সুষ্ঠ নৌ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। আমরা গত এক বছরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২০-২৫টি মামলা দিয়েছি, জরিমানা আদায় করেছি। বিআইডব্লিউটিএর পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জাহাজের যত্রতত্র নোঙর রোধ করে রুটটি নিরাপদ করা সম্ভব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা