আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৪৮ এএম
ফাইল ফটো
উৎপাদনে নতুন রেকর্ড তৈরির স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। ২০২১ সালে ১৬৮ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৬৫ লাখ ৬ হাজার কেজি চা উৎপাদন হওয়ার পর চলতি বছর ১০ কোটি ২০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছে তারা।
পর্যাপ্ত বৃষ্টিসহ অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ছোঁয়ায় চা বাগানগুলোতে সুবাতাস বইছে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ মুহূর্তে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। গতবারের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি না হলে এ বছর ১০ কোটি কেজির বেশি চা উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। এ বছর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি ১০ কোটি ২০ লাখ কেজি। লক্ষ্য পূরণে বোর্ড কাজ করছে।’ চা-শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে গত বছর লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রতিবছর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে চাগাছের কাটিং হয়। এ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে গাছে নতুন কুঁড়ি আসে, মার্চে পাতা তোলা শুরু হয়। মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বৃষ্টি হওয়া মানে চা উৎপাদন বাম্পার হওয়ার সম্ভাবনা। চট্টগ্রাম ও সিলেটে এবার মার্চের শুরুর দিক থেকে নিয়মিত বৃষ্টি হয়েছে।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তার মধ্যে জানুয়ারিতে ৩ লাখ ৬৪ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিল এ বছরের প্রথম নিলাম হবে চট্টগ্রামে। এরপর ২৬ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলে আরেকটি নিলাম হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি, ২০২১ সালে ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি এবং ২০২২ সালে ৯ কোটি ৩৮ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়। এই হিসেবে ২০২১ সালে উৎপাদন বাড়লেও পরের বছর ২০২২ সালে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে উৎপাদন কমে যায়।
টি ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতসহ উৎপাদন উপযোগী পরিবেশ বজায় ছিল। লক্ষ্যমাত্রাও ছিল ১০ কোটি কেজির বেশি। কিন্তু শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে পাঁচ-ছয়টি নিলামে চা সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। পরে শ্রমিক সংকট সমাধান হলেও উৎপাদনে যে ঘাটতি ছিল তা আর কাটিয়ে ওঠা যায়নি।
এবার চট্টগ্রামের চা বাগানগুলোতে আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে উদলিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, চা উৎপাদনের জন্য বৃষ্টি খুব উপকারী। আবার অতিবৃষ্টিতে মাটিক্ষয় হয়; জমির উর্বরতা কমে যায়। এতে বাগানের উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হয়। আবার অনিয়মিত বৃষ্টি উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এবার আমাদের চা বাগানে আড়াই ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও তিন ইঞ্চিও হয়েছে। এখন যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে তা চা উৎপাদনের জন্য যথার্থ। আমরা ভালো ফলন আশা করছি।
চায়ের নিলাম কার্যক্রম নিয়ে পরিকল্পনা ঠিক করতে গত ২৭ মার্চ সভা করে টি সেলস কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সভায় ঠিক করা হয় ২০২৩-২৪ নিলামবর্ষে ৬৯টি নিলামে চা কেনাবেচা হবে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে ৪৬টি এবং শ্রীমঙ্গলে ২৩টি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।
ন্যাশনাল টি ব্রোকার্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অঞ্জন দেব বর্মণ বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে চা বাগানগুলোতে সুবাতাস বইছে। এই বৃষ্টি চাগাছে নতুন কুঁড়ি জন্মাতে ভালো ভূমিকা রাখবে। আগামী কয়েক মাসে চায়ের উৎপাদন বেড়ে যাবে। বছরজুড়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বছরের আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের দিকে যদি স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো যায়, তাহলে চলতি বছর চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।