গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৩ ২১:৩২ পিএম
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩ ১০:৪৭ এএম
জমি বাঁচাতে সহায়তা চেয়ে ফোন দেওয়া হয় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ। কিন্তু সহায়তার বদলে উল্টো আটক করা হয় ওই পরিবারের তিন সদস্যকে। আটকের কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিপক্ষ নারীর করা নির্যাতন মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় গত ৭ এপ্রিল। পরে আদালত একজনকে জামিন দিয়ে দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
সহায়তার বদলে হয়রানি করার এই অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ সদর থানার গোপীনাথপুর তদন্ত কেন্দ্রের দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুকতাইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটলেও জানাজানি হয় সোমবার (১০ এপ্রিল)। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। পুলিশের ভাষ্য, তাদের সামনেই প্রতিপক্ষ ওই নারীর ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় করার মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন, সেখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
ওই দিন যারা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তারা হলেন- হিরু মোল্লা, তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও তাদের ছেলে বাইজিদ মোল্লা। তাদের মধ্যে শুধু ফাতেমা বেগমকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
এ ঘটনায় হিরু মোল্লার ছেলে দুবাই প্রবাসী হেলাল মোল্লা গত ৭ এপ্রিল ফেসবুকে পুলিশের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ও বৃদ্ধ বাবাসহ পরিবার সদস্যদের বাঁচাতে আকুতি করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।
ফাতেমা বেগম বলেন, ‘তার স্বামী হিরু মোল্লার সঙ্গে তার আপন ভাই বিজিবি সদস্য ইয়াহিয়া মোল্লার জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন ইয়াহিয়া মোল্লার স্ত্রী চামেলী বেগম হিরু মোল্লার জায়গায় জোর করে সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করতে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরুপায় হয়ে পুলিশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন দেন। এ সময় গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আবু হাসান ও সহকারী উপপরিদর্শক ওহেদুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে চামেলী বেগমের সঙ্গে মীমাংসার কথা বলে তাদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাদের আটকে রাখা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর চামেলী বেগম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করলে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।’
মামলার বাদী চামেলী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর রেকর্ড করা জায়গায় মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করছিলাম। হিরু মোল্লার পরিবার শত্রুতা করে বাধা দিয়েছে। আমারা ওপর হামলাও হয়েছে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের নামে মামলা করেছি।’
তবে প্রত্যক্ষদর্শী হেদায়তে মোল্লা বলেন, ৯৯৯ ফোন দেওয়ার পর পুলিশ আসে। প্রথমে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছিল তারা। হঠাৎ এক পুলিশ সদস্যের মোবাইলে ফোন আসে। এর পর চামেলী বেগমের ঘরে গিয়ে তার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কথা বলতে দেখা যায়। ঘর থেকে বের হয়ে তারা হিরু মোল্লা, তার স্ত্রী ও ছেলেকে মীমাংসার কথা বলে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে আমরা জানতে পারি, তাদের চামেলী বেগমের করা নারী নির্যাতন মামলায় আটক করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে কোনো হামলা বা মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। তবে জমিতে কাজ করা নিয়ে নারীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়েছে।
একই কথা বলেন ফুকরাম মোল্লা। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে কোনো হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত দোষীর শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
এ বিষয়ে গোপীনাথপুর তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক আবু হাসানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সহকারী উপপরিদর্শক ওহেদুজ্জামান বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই। এসআই আবু হাসান স্যার ও ইনচার্জ যেটা বলবে সেটাই ঠিক।’
গোপীনাথপুর তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পুলিশের সামনে মামলার বাদীর ওপর হামলা করায় তাদের আটক করা হয়েছিল এবং তারা যা বলছেন সেটাই সঠিক।’
সদর থানার ওসি জাবেদ মাসুদ বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পুলিশের সামনে মামলার বাদীকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’
জেলা পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘ফাতেমা বেগম ৯৯৯ এ ফোন করে সহায়তা চেয়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের সামনেই মামলার বাদীকে মারধর করলে তাদের আটক করা হয়।’