সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ২০:০৬ পিএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ২০:২৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দীর্ঘদিনেও নাভারণ-সাতক্ষীরা-মুন্সীগঞ্জ রেললাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। বসন্তপুর নৌবন্দর স্থাপনের সংরক্ষক নিয়োগ করে গেজেট প্রকাশিত হলেও দৃশ্যত আর কোনো কার্যক্রম নেই। সাতক্ষীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পর্যটনকেন্দ্র সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলেও চিকিৎসক ও জনবল সংকটে সেটি চিকিৎসা সেবায় পরিপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে না। পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি ভোমরা স্থলবন্দর। জেলার বিভিন্নস্থানে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পৌর এলাকার জনগণ। আয়রন, আর্সেনিক, লবণাক্ততার কারণে বিশুদ্ধ পানির অভাব জেলার সব এলাকায়।
এমনসব অভিযোগ এনে ২১ দফা দাবিতে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হলো নাগরিক সংলাপ। শনিবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আজাদ হোসেন বেলাল।
সংলাপে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজাহার হোসেন বলেন, সারা দেশে উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এপারের জেলাগুলোতেও উন্নয়নের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। সেই উন্নয়ন যশোর-নড়াইল-খুলনা-বাগেরহাট পর্যন্ত এসে পৌঁছলেও সাতক্ষীরা এখনও অনেকটা দূরে রয়ে গেছে। জেলার উন্নয়নের গতি খুবই ধীর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এই এলাকায় শিক্ষার হার কম। দারিদ্র্যতার হার দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। ফলে মৌলবাদ জঙ্গিবাদসহ নানা সংকটে জর্জরিত এই এলাকা। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে এই এলাকাকে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
আরও বক্তব্য দেন, অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, সুধাংশু শেখর সরকার, ওবায়দুস সুলতান বাবলু, মাধব চন্দ্র দত্ত, আলী নুর খান বাবুল, ওসমান গনি, আজাহারুল ইসলাম, শেখ হারুণ অর রশিদ, কাজী আকতার হোসেন, ওহাব আলী সরদার, অধ্যাপক ইদ্রিশ আলী, খগেন্দ্র নাথ ঘোষ, আব্দুল ওয়ারেশ খান চৌধুরী, নিত্যা নন্দ সরকার, আবু আফনান রোজ বাবু, শেখ মুসফিকুর রহমান মিল্টন, মুনসুর রহমান, আব্দুস সাত্তার, জাফর উল্লাহ কুতুব উদ্দিন মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জোৎন্সা দত্ত, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নাগরিক কমিটির ২১ দফা দাবি সম্বলিত বুলেটিন প্রকাশ করা হয়। ২৯ এপ্রিল পরবর্তী সভা, ৩ মে সাতক্ষীরার সব সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের নিকট একযোগে ২১ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৮ মে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গণঅবস্থান কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয়।