বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:১০ পিএম
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৮:৫৭ পিএম
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৮ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রবা ফটো
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা সবাই বম জনগোষ্ঠীর। শনিবার (৮ এপ্রিল) মরদেহগুলো হস্তান্তরের সময় বম সোশ্যাল কাউন্সিলের (বিএসসি) সভাপতি লালজার লম বম নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেন। দুপুরে বান্দরবান সদর হাসপাতাল থেকে বিএসসি সভাপতি মরদেহগুলো গ্রহণ করেন।
নিহতরা হলেন- জুবরাং পাড়া এলাকার লাল ঠাজার বম, সাংখুম বম, বয়রেম রোয়াত বম, সানপির থাং বম, ভানদুহ বম, লাল লিয়ান ঙাক বম, রনিন পাড়া এলাকার বম রাং থাম ও পাইংক্ষ্যং পাড়া এলাকার জেইহিম বম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) রোয়াংছড়ির খামতাং পাড়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় জীবন বাঁচাতে স্থানীয়রা পার্শ্ববর্তী রুমা উপজেলা ও রোয়াংছড়ি সদরে পালিয়ে যায়। পরদিন শুক্রবার সকালে উপজেলার খামতাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার জঙ্গলে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় গুলিবিদ্ধ মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান হাসপাতালে প্রেরণ করে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, নিহতদের মধ্যে লাল ঠাজার বম জুবারাং পাড়া এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কাজ করতেন। সাংখুম বম জুবরাং পাড়া চার্চের এক্সিকিউটিভ সদস্য, বয়রেম রোয়াত বম পটিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি পরিক্ষার্থী, সানপির থাং বম রুমা সাঙ্গু কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মরদেহগুলো জুবরাং পাড়া ও পাইংক্ষ্যং পাড়ায় সমাধিস্থ করা হবে বলে জানান বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লালজার লম বম। তবে এ ঘটনার বিষয়ে তিনি এর বেশি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যারা মরদেহগুলো গ্রহণ করতে এসেছিলেন সবার চোখে মুখে আতঙ্কের চাপ ছিল। এ ব্যাপারে কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান বলেন, খামতাং পাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা গুলিবিদ্ধ ৮ জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে সৎকারের জন্য বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লালজার লম বমের নিকট হস্তান্তর করা হয়ছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক ও কুকিচিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ৮ জন নিহত হওয়ার পর পুরো এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে। রুমা উপজেলায় থাকা গ্রামের ২০টি পরিবারের নারী-পুরুষ-শিশু মিলিয়ে ৬৪ জন শুক্রবার সকালে হেঁটে রওনা দিয়ে বিকালে রুমা উপজেলা সদরে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উহ্লা মং মারমা। সেখানে তারা বম সোশ্যাল কাউন্সিলে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদিকে নারী-পুরুষ-শিশুসহ ১৭৪ জন রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরের রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোয়াংছড়ি উপজেলা খামতাংপাড়ায় খেয়াং জনগোষ্ঠীর ৯০টি পরিবারের বসবাস। এই পাড়াটি অর্ধেক পড়েছে রোয়াংছড়ি উপজেলায় আর অর্ধেক পড়েছে রুমা উপজেলায়। গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্কে সীমান্তবর্তী খামতাংপাড়া এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে। জীবন বাঁচাতে তারা রুমা উপজেলা সদরে ও রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উবামং মারমা তাদের দলের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ইউপিডিএফ একটি নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দল। তাদের দলে কোনো সশস্ত্র গ্রুপ নেই। ১৯৯৭ সালে সরকারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তারা সেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করছে। কুকিচিনের ৮ জন নিহতের ঘটনা ইউপিডিএফ কোনোভাবেই জড়িত নয়। কুকিচিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) নিজেদের কোন্দলের কারণে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।