মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ১৩:৫৭ পিএম
গহিন অরণ্যের গয়ালের কদর বাড়ছে সমতলে। প্রবা ফটো
গয়াল পাহাড়ি গরু বা বনগরু নামে অধিক পরিচিত। সমতলে প্রাণীটি অনেকটা অপরিচিত বলা যায়। পার্বত্যাঞ্চলে একে চিটাগং বাইসন নামে ডাকা হয়। পাহাড়িরা বহু আগে থেকে গভীর বন থেকে এ গরু ধরে এনে লালন-পালন করছেন। তাদের কাছে এ গরুর মাংস অত্যন্ত প্রিয়।
লাদেশের পার্বত্য বনাঞ্চলের গহীন অরণ্যের প্রাণীটি এখন সমতলভূমিতেও লালন-পালন শুরু হয়েছে। পোষা গবাদিপশু হিসেবে সমতলে প্রাণীটির কদর বাড়ছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গয়াল বন্য গরুর একটি প্রজাতি। বাংলাদেশের বনাঞ্চল থেকে গয়াল বিলুপ্ত হয়ে গেছে উল্লেখ করে ২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত হয়। তবে এটি বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার মিত্র। এখনও দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাণীটি রয়েছে। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী গয়াল রক্ষিত বন্যপ্রাণী নয়, এটি এখন পোষা গবাদিপশু।
বন বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ১৯৬৪ সালের আগ পর্যন্ত গয়াল ছিল বন্যপ্রাণীর তালিকাভুক্ত। ১৯৬৪ সাল থেকে গয়ালকে বন্যপ্রাণীর তালিকা থেকে গবাদিপশু হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়। এরপর বন থেকে অবাধে গয়াল ধরে এনে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে গবাদিপশু হিসেবে লালন-পালন করা হয়।
সিলেট অঞ্চলের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সমতলেও রয়েছে চারটি গয়াল। পুরো সিলেট বিভাগের আর কোথাও গয়ালের অস্তিত্ব নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছে এই গয়াল। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের মৌলভী চা বাগানে কয়েক বছর ধরে এই গয়াল লালন-পালন করা হচ্ছে। বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজমত মঈন শখের বশে এসব গয়াল লালন-পালন করছেন। গয়ালগুলো দেখাশোনা করছেন বাগানের শ্রমিক মঙ্গল বাউরি ও আলফু মিয়া।
এ বিষয়ে চা শ্রমিক মঙ্গল বাউরি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তিন-চার বছর ধরে তিনি গয়ালগুলোকে দেখাশোনা করছেন। বাগানে তিনটি গয়াল আনা হয়েছিল। পরে একটি বাচ্চা দিয়েছে। এখন চারটি গয়াল আছে। তিনি ও আলফু এসব গয়াল ভোরে বাগানের প্লান্টেশন এলাকায় নিয়ে যান। এসব এলাকায় গয়ালগুলো বিচরণ করে। পরে সন্ধ্যায় বাগানে তাদের জন্য তৈরি করা ঘরে নিয়ে যান।
বাগানের ফ্যাক্টরি ইনচার্জ বাসুদেব পাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তাদের বাগানের মালিক অত্যন্ত শৌখিন মানুষ। গয়াল গরু ও ঘোড়া পালন তার শখ। তাদের বাগানের এ চারটি গয়াল ছাড়া সিলেট বিভাগের আর কোনো স্থানে প্রাণীটি নেই। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ বাড়িতেই গয়াল গবাদিপশু হিসেবে লালন-পালন করা হয়। এটিকে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী বলা হলেও আসলে এটি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী নয়।
বাসুদেব পাল বলেন, একবার স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গয়ালগুলোকে দেখতে এসেছিল। প্রথমে তারা দাবি করেছিলেন গয়ালগুলো বন্যপ্রাণী। কিন্তু পরে ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন পর্যবেক্ষণের পর তারা ফিরে যান।