× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঈদে সিলেটের দর্জিপাড়ায় নেই চিরচেনা ব্যস্ততা

কাওছার আহমদ, সিলেট

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৩ ১০:৫৩ এএম

সিলেটের একটি দর্জির দোকানে কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মচারীরা। প্রবা ফটো

সিলেটের একটি দর্জির দোকানে কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মচারীরা। প্রবা ফটো

ঈদ মানে খুশি, আর এই খুশি উদযাপনের অন্যতম উপাদান হলো নতুন পোশাক। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে তাই নতুন পোশাক কিনতে বিভিন্ন শপিং মল ও দোকানের দিকে ছুটছে মানুষ।

মার্কেট ঘুরেও অনেক সময় পছন্দের পোশাক পাওয়া যায় না। পছন্দ হলেও আবার অনেক সাইজ মেলে না। তবে এসব ঝামেলা এড়াতে অনেক ফ্যাশনসচেতন মানুষ তাদের মনের মতো পোশাক বানান দর্জির থেকে। অথচ এবার ১৪ রোজা পার হয়ে গেলেও সিলেটের দর্জিপাড়ায় নেই ঈদের সেই চিরচেনা ব্যস্ততা।

এবারের ঈদে দর্জিপাড়ায় আগের মতো ব্যস্ততা না থাকায় বসে বসে অলস সময় পার করছেন কারিগর ও মালিকরা। অথচ মাত্র ৩ বছর আগেও জমজমাট ব্যবসা ছিল। ঈদে শপিং মলগুলোর সঙ্গে সমানতালে ভিড় জমে উঠত দর্জির দোকানগুলোতে।

কিন্তু গত দুই বছর করোনার কারণে ব্যবসা ভালো হয়নি। এবার পুরোদমে কাজ পাওয়ার আশা ছিল দর্জিদের। কিন্তু এবার ঈদের আগে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। করোনা সংক্রমণ কমে এলেও দর্জির দোকানগুলোতে এখনও লাগেনি ঈদের আমেজ। এমনটা জানিয়েছেন নগরীর দর্জিপাড়ার কারিগর ও মালিকরা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দর্জিপাড়ায় একেবারে নেই বললে চলে। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপশহর এলাকার লা বেলা লেডিস অ্যান্ড ফেব্রিক্সে মাত্র একজন কাস্টমার এসেছেন। দোকানের চারজন কর্মচারীর সবাই অলস সময় কাটাচ্ছেন। একই অবস্থা দেখা যায় বন্দর বাজার, শিবগঞ্জ, জিন্দাবাজার, উপশহর, নয়াসড়কসহ নগরীর দর্জিপাড়াগুলোতে। 

অধিকাংশ কারিগর ও টেইলার্স মালিকরা জানান, সিলেট প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকা। বেশিরভাগ প্রবাসী শীত মৌসুমে দেশে আসেন। তখন দর্জিপাড়ায় ব্যস্ততা বাড়ে। তিন-চার বছর ধরে ঈদ মৌসুমের চেয়ে শীতকালে ব্যবসা ভালো হয়। তখন সবাই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

কথা হয় নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার রেমন্ড টেইলার্স অ্যান্ড এক্সক্লুসিভ ফেব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী মো. ইয়াহিয়া আহমদের সঙ্গে। তিনি জানান, শোরুম ও কারখানা মিলিয়ে তার প্রতিষ্ঠানে স্টাফ ২২ জনের মতো। কাজ না থাকায় সবাই দিনের অধিকাংশ সময় বসে বসে অলস সময় পার করছেন। 

ইয়াহিয়া আহমদ আরও বলেন, ‘মাত্র তিন বছর আগেও রমজানে ব্যবসা জমজমাট ছিল। ১২-১৩ রমজানের পরে আর কোনো অর্ডার রাখা হতো না। এখন সকাল থেকেই অর্ডারের অপেক্ষায় বসে থাকি।’ 

নগরীর উপশহর রোডের লা বেলা লেডিস অ্যান্ড ফেব্রিক্সের পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘করোনার আগে ব্যবসা ভালো ছিল। তখন রমজানে এতই ব্যস্ত থাকতে হতো কারও সঙ্গে কথা বলার সুযোগই থাকত না। প্রতিদিন গড়ে ২০-২৫টা অর্ডার নিতাম। কিন্তু করোনার ভয়াল থাবায় সবই তছনছ হয়ে গেছে। এরপরও কাস্টমারের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য নতুন করে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করলাম। কিছুতেই ব্যবসার উত্তরণ হচ্ছে না। সারা দিনে ৫-৭টা অর্ডার আসে।’ 

দর্জিপাড়ার ব্যবসা মন্দার কারণ জানতে চাইলে শিবগঞ্জ এলাকার আল-রাফি টেইলার্সের মালিক ফুল মিয়া জানান, তার দোকানে সব পর্যায়ের ক্রেতা আসে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে মানুষ। করোনার ধাক্কা সামলে স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। 

সোনারপাড়ায় ধানসিঁড়ি লেডিস টেইলার্সের এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এবার ঈদের ব্যবসা লাটে উঠেছে। যেখানে আগে ১৫ রমজানের পর ক্রেতাদের অর্ডার আর নেব কি না, তা ভাবতে হতো, এবার সেখানে সেই চিন্তা মাথায়ই আসছে না। শুধু তা-ই না, তিন বছর আগেও একেকজন কাস্টমার চার-পাঁচ সেট ড্রেস বানাতেন, সেখানে এখন এক-দুই সেটের বেশি অর্ডার পাচ্ছি না। এই যে আজ ১৫ রমজানে আপনার সঙ্গে বেকার বসে বসে কথা বলছি। আগে অবস্থা এমন ছিল যে কথা বলতে দোকানে দাঁড়ানোরই জায়গা পেতেন না।’

জিন্দাবাজার রেমন্ড টেইলার্স অ্যান্ড এক্সক্লুসিভ ফেব্রিক্সে শার্ট ও প্যান্টের সেলাইয়ের অর্ডার দিতে আসা সাখাওয়াত হোসেন সাজু নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে মার্কেটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়।

তিনি জানান, কোয়ালিটিসম্পন্ন একটি শার্ট অথবা প্যান্টের কাপড় ২ হাজার টাকার নিচে পাওয়া যায় না। পাঞ্জাবির কাপড়েও একই দাম। এরপর সেলাই করার সময় শার্টে ৪৫০, প্যান্টে ৫৫০ ও পাঞ্জাবিতে ৫০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, সব মিলিয়ে একটি শাটের্র মূল্য প্রায় আড়াই হাজার টাকা হচ্ছে। এসব হিসাব করে কিছু কাস্টমার অপেক্ষাকৃত কম দামে রেডিমেড মার্কেটের দিকে ঝুঁকছে। এ ছাড়া মানুষের আর্থিক সংকটও একটি কারণ হতে পারে।

উপশহর মেইন রোডে লা বেলা লেডিস অ্যান্ড ফেব্রিক্স থেকে আগের অর্ডারি কাপড় নিতে আসা কলেজপড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়।

তানজিয়া শিশির পুষ্পা নামের ওই ক্রেতা জানান, তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য রমজানের আগে শপিংয়ের কাজ শেষ করেছেন। তার মতো হয়তো আরও অনেকেই নিজের সুবিধামতো সময়ে রমজানের আগে অথবা প্রথম দিকে শপিংয়ের কাজ শেষ করেছেন। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লায় বহু নারীর সেলাইয়ের দোকান রয়েছে। ঘরের পাশে সুবিধা পাওয়ায় কাস্টমার এখন আগের মতো ভিড় করে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা